হংকংয়ের ৮০০ মিটার দীর্ঘ এসকেলেটরে ২০ মিনিটের যাত্রা, দিক বদলায় সকাল-রাতের সময় ধরে

হংকংয়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছতে ট্রেন, বাস বা কেবল কার নয়, রয়েছে সেন্ট্রাল-মিড-লেভেলস এসকেলেটর। প্রায় ৮০০ মিটার দীর্ঘ এই চলন্ত সিঁড়ির ব্যবস্থা বিশ্বের দীর্ঘতম আচ্ছাদিত বহিরাঙ্গন এসকেলেটর সিস্টেম হিসেবে পরিচিত। দৈর্ঘ্যের নিরিখে তা দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার উচ্চতার প্রায় সমান।
সম্প্রতি এই এসকেলেটরে চড়ার অভিজ্ঞতা সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন আমেরিকান ভ্লগার ক্যাটলিন। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি এখন হংকংয়ে, বিশ্বের দীর্ঘতম এসকেলেটরে চড়তে চলেছেন, এর দৈর্ঘ্য প্রায় বুর্জ খলিফার উচ্চতার সমান, উপরে পৌঁছতে কত সময় লাগে তা দেখতে চান। যাত্রা শুরুর সময় ছিল দুপুর ২টো ৫১ মিনিট।
যাত্রা শুরু করার পর তিনি বুঝতে পারেন, উপরে পৌঁছতে বেশ সময় লাগবে। প্রায় ১০ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে উপরের দিকে উঠছিলেন। ভিডিওতে ক্যাটলিন বলেন, ১০ মিনিট হয়ে গিয়েছে, এখনও এসকেলেটর দিয়ে উপরে উঠছেন। পথে একটি বেশ খাড়া অংশ দেখে বিস্ময়ও প্রকাশ করেন তিনি।
যাত্রাপথে হংকংয়ের পাহাড়ি এলাকা এবং আশপাশের জনবসতির দৃশ্য নজর কাড়ে তাঁর। একের পর এক চলন্ত সিঁড়ি পেরিয়ে উপরে উঠতে উঠতে শহরের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যান ক্যাটলিন। তবে এই দীর্ঘ যাত্রার মাঝে একটি বিষয় তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। উপরে ওঠার ব্যবস্থা থাকলেও নিচে নামার জন্য একই রকম এসকেলেটর নেই, রয়েছে সিঁড়ি। ফলে কীভাবে নিচে ফিরবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি।
শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০ মিনিট পর এসকেলেটর ব্যবস্থার শেষ প্রান্তে পৌঁছন ক্যাটলিন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, অবশেষে শেষ প্রান্তে পৌঁছেছেন, ২০ মিনিট পর বিশ্বের দীর্ঘতম এসকেলেটরে চড়ার অভিজ্ঞতা শেষ হলো, এবার কীভাবে নিচে ফিরবেন সেটাই ভাবতে হবে।
শুধু যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবেই নয়, পর্যটকদের কাছে হংকংয়ের এই এসকেলেটর একটি বিশেষ আকর্ষণ। এর দুই পাশে রয়েছে নানা রেস্তোরাঁ, দোকান এবং স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে ইচ্ছা হলে যাত্রাপথের মাঝেই নেমে আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় খাবারের স্বাদও নেওয়া যায়।
তবে এই এসকেলেটর সারা দিন একই দিকে চলে না। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সময় অনুযায়ী দিক পরিবর্তন করে। সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এটি নিচের দিকে নামে, যাতে সকালের ব্যস্ত সময়ে মানুষ সহজে কর্মস্থলে পৌঁছতে পারেন। এরপর সকাল ১০টা ২০ মিনিট থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে উপরের দিকে। ফলে দিনের অন্য সময়ে শহরের উঁচু এলাকার দিকে যেতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেন।


