জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক সমিতির পদবি নিয়ে বিভ্রান্তি, সংশোধনের কথা জানাল জনসংযোগ দপ্তর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদবি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বিরুদ্ধে।
শিক্ষক সমিতির নেতাদের দাবি, উপাচার্যের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের পরিবর্তে তাঁদের প্রতিনিধিদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ড. আজম খান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইনের নাম উল্লেখ করা হয়।
তবে শিক্ষক সমিতির নেতারা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। তিনি কাউকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে যাননি, মৌখিক বা লিখিত কোনোভাবেই নয়। ওই দিন তিনি আনুষ্ঠানিক ছুটিতে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মডারেশনের কাজে ছিলেন বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভুল জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আরও সচেতন থাকা উচিত।
শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূইয়া বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে আসার পরপরই জনসংযোগ দপ্তরকে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে যাওয়ায় তিনি শিক্ষক সমিতির একজন সদস্যকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে পাঠিয়েছিলেন। অধ্যাপক ড. আজম খান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে নয়, বরং ভারপ্রাপ্ত সভাপতির প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টিকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেছে এবং সংশোধনের কথা জানিয়েছে। এ জন্য দপ্তর থেকে তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশও করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আজম খান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিলাল হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত তাঁরা প্রতিনিধি হিসেবে এসব দায়িত্ব পালন করছেন, এটি বোঝানোই বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, তাঁদের বিজ্ঞপ্তি তিন স্তরের অনুমোদন শেষে প্রকাশ হয় এবং উপাচার্য চূড়ান্তভাবে দেখার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফায়েড পেজে আপলোড করা হয়েছে। তবে এটি তাঁরা সংশোধন করছেন বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও দি ইবনে সিনা ট্রাস্টের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে রেফার করা শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের যোগ্য নির্ভরশীলদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিশেষ ছাড় দেওয়ার কথা রয়েছে।



