শীতলক্ষ্যা দূষণে ক্ষতির হিসাব তিন মাসে দিতে পরিবেশসচিব ও অধিদপ্তরকে হাইকোর্টের নির্দেশ

শিল্পকারখানার বর্জ্যে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী দূষণের ফলে পরিবেশ ও অর্থনীতির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করে প্রতিবেদন জমা দিতে পরিবেশসচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালত তিন মাস সময় দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। সংগঠনটির পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান শুনানিতে অংশ নেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৬ মে শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। তখন দূষণকারী শিল্পকারখানাগুলো নজরদারিতে রাখা, এ বিষয়ে কমিটি গঠন এবং নদীদূষণের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণসহ কয়েকটি নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।
ওই আদেশের পরও ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় এইচআরপিবি আদালতে আবার আবেদন করে। আবেদনে বলা হয়, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই অনেক শিল্পকারখানা পরিচালিত হচ্ছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, এসব কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে শীতলক্ষ্যা নদী ও আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রিটে দূষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আরএসকে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিট ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এমআর ডাইং, আবদুর রব ডাইং, বিসমিল্লাহ নিট ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং ও হাজী রাসুল ডাইংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশ, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং ১১৭টি শিল্পকারখানার মালিক।




