ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে সর্বসম্মতভাবে খারিজ ২০২৭ সালের বাজেট বিল, সিনেটে যাচ্ছে সরকারি খসড়া
ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদ বুধবার রাতে ২০২৭ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেট বিল সর্বসম্মতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই প্রত্যাখ্যানের ফলে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর পক্ষে ৪ হাজার ৩০০ কোটি ইউরোর বাজেট সাশ্রয়ের পরিকল্পনা পাস করানো আরও কঠিন হয়ে পড়ল।
কর আয়সংক্রান্ত বিলের প্রথম অংশের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৫৮ জন আইনপ্রণেতা। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর শিবিরের সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধীরাও ছিলেন এই ভোটে। বিভিন্ন পক্ষের আনা সংশোধনীতে বিলটি এতটাই বদলে গিয়েছিল যে শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই তা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না।
প্রথম অংশ খারিজ হয়ে যাওয়ায় ব্যয়সংক্রান্ত দ্বিতীয় অংশটিও বাতিল হয়ে গেছে। এখন সরকারের মূল খসড়া বাজেট সরাসরি সিনেটে যাবে, যেখানে ২০ নভেম্বর থেকে এর ওপর বিতর্ক শুরু হবে।
এর আগে জাতীয় পরিষদ ২০২৭ সালের বাজেটের আরেকটি অংশও প্রত্যাখ্যান করেছিল, যেটি রাষ্ট্রীয় পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে। সেটিও এখন সিনেটে আলোচনা হবে।
ফ্রান্সের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে, ঋণ বাড়ছে এবং দেশটির ওপর আর্থিক সংকটের ঝুঁকি ঘনিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে লেকর্নুর সরকারের ওপর আর্থিক অবস্থা সামাল দেওয়ার চাপ বাড়ছে। সরকার আগামী বছর ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ঘাটতি বলতে বোঝায় সরকারের ব্যয় ও আয়ের মধ্যকার পার্থক্য।
বাজেটমন্ত্রী দাভিদ আমিয়েল বুধবার সতর্ক করে বলেন, সংশোধনীর পর ওই রাতে খারিজ হওয়া বাজেট সংস্করণটি ঘাটতিকে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে নিয়ে যেত।
নিম্নকক্ষে লেকর্নুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, ফলে এই প্রত্যাখ্যান অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। এর ফলে সরকার পার্লামেন্টের ভোট ছাড়াই বিলটি জোর করে পাস করানোর পথে যেতে পারে, সেই সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।
২০২৭ সালের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে আসছে। সরকার বারবার বলে আসছে, বছরের শেষের মধ্যেই বাজেট পাস করানো তাদের লক্ষ্য। আগের দুটি বাজেটের ক্ষেত্রে তারা সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল।
সরকার চাইলে সংবিধানের ৪৯ দশমিক ৩ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করতে পারে। এই বিধান পার্লামেন্টের ভোট ছাড়াই বিল পাসের সুযোগ দেয়, তবে এতে সরকারের বিপক্ষে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পথও খুলে যায়। আরেকটি বিকল্প হলো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাজেট গ্রহণ, যা ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।




