জাতিসংঘের খসড়া প্রস্তাব নিয়ে ইইউকে ‘নিজের কাজে মন দিতে’ বলল উত্তর কোরিয়া

জাতিসংঘে মানবাধিকার নিয়ে খসড়া প্রস্তাব তোলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে পিয়ংইয়ং ইইউকে ‘নিজের কাজে মন দিতে’ বলেছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সমালোচকের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দিশিবির পরিচালনা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যে প্রবেশাধিকারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ। দেশটির ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা সম্পর্কেও বাইরে খুব কমই জানা যায়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৫ সাল থেকে প্রতি বছর উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে একটি করে প্রস্তাব গ্রহণ করে আসছে। এবারও ইইউ সেই ধারাবাহিকতায় নতুন একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার জাতিসংঘ মিশন সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিতে (কেসিএনএ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ইইউ আবারও এমন একটি ‘খসড়া প্রস্তাব’ জমা দিয়েছে, যা দেশটির মানবাধিকার নীতি ও পরিস্থিতিকে ‘নির্লজ্জভাবে বিকৃত’ করছে। বিবৃতিতে দেশটিকে তার আনুষ্ঠানিক নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ডিপিআরকে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়া এই উদ্যোগকে ‘প্রহসন’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উসকানি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মানবাধিকার কোনোভাবেই পশ্চিমাদের একচেটিয়া বিষয় নয়।’
বিবৃতিতে ইউরোপের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে আরও বলা হয়েছে, প্যারিস থেকে শুরু করে ইইউর সদর দপ্তর ব্রাসেলস পর্যন্ত ইউরোপের বিভিন্ন শহরের রাস্তা বেঁচে থাকার অধিকারের মতো মৌলিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ভিড়ে পূর্ণ। বিবৃতির ভাষায়, ‘অস্তিত্বহীন মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে হইচই করার বদলে ইইউর বরং নিজের কাজে মন দেওয়াই ভালো।’
খসড়া প্রস্তাবটি চলতি মাসের শেষের দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে গৃহীত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সেটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পূর্ণাঙ্গ সাধারণ পরিষদে যাবে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার গত বছর বলেছিলেন, গত এক দশকে উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকারের ক্ষেত্রে কোনো উন্নতি দেখা যায়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।




