সুন্দরবনে বনদস্যুদের অপহরণ-মুক্তিপণে আতঙ্কে জেলেরা, কয়রার কাশিয়াবাদে মানববন্ধন

সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন উপকূলীয় হাজারো জেলে। কিন্তু বনদস্যুদের অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণের দাবিতে সেই চেনা জলপথ এখন অনেকের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সুন্দরবননির্ভর জেলেরা।
সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা এবং জেলেদের নিরাপদে মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে খুলনার কয়রা উপজেলার কাশিয়াবাদে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বনজীবীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে যাওয়া জেলেদের জন্য বনদস্যুদের অপহরণ ও চাঁদাবাজি বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক জেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
বক্তাদের ভাষ্য, দস্যুদের ভয়ে কেউ কেউ জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মাছ ধরা থেকেও সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে শুধু জেলেরা নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, বনদস্যুতা কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, সুন্দরবনের সম্পদ আহরণ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।
দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা, অর্থের জোগানদাতা ও সহযোগীদের শনাক্ত করা জরুরি বলে বক্তারা মত দেন। এসব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা না গেলে দস্যুতা নির্মূলের উদ্যোগ দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর হবে কিনা, তা নিয়েও তাঁরা সংশয় প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের আধার নয়, এটি উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম অবলম্বন। বন ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
মানববন্ধন থেকে দাবি জানানো হয়, দস্যুদমনে নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে, নদী-খালে টহল জোরদার করতে হবে, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রশাসনের প্রতি বক্তারা সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে কার্যকর ও ধারাবাহিক অভিযান, জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা এবং বনদস্যুদের সহযোগীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেন তাঁরা।




