…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › জাতীয় › খবর
জাতীয়

বান্দরবানের মার্মা বাজারে গণশৌচাগার নেই, সাঙ্গু নদীর তীরে যেতে বাধ্য হন নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বান্দরবানের মার্মা বাজারে গণশৌচাগার নেই, সাঙ্গু নদীর তীরে যেতে বাধ্য হন নারীরা
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবান শহরের মধ্যমপাড়া মার্মা বাজারে কোনো গণশৌচাগার না থাকায় প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সেখানে পণ্য বেচাকেনা করতে আসা নারীরা। পাহাড়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে আসা নারী, বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের দিনের বড় একটি অংশ বাজারে কাটলেও মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকু সেখানে নেই।

ভোর পাঁচটায় বাড়ি থেকে বের হয়েছেন সুমিতা তঞ্চঙ্গ্যা (৬৫)। পাহাড়ে উৎপাদিত লাউ, বরবটি ও লেবুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিয়ে তিনি এসেছেন বান্দরবান শহরের মধ্যমপাড়া মার্মা বাজারে। এসব পণ্য বিক্রি করেই চলে তার সংসার। বাজারে ক্রেতার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় থাকতে হয় তাকে।

এর মধ্যে একপর্যায়ে প্রস্রাবের চাপ এলে বাজারে কোনো পাবলিক টয়লেট বা গণশৌচাগার না থাকায় বিপাকে পড়েন সুমিতা। আশপাশেও যাওয়ার মতো কোনো জায়গা ছিল না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সাঙ্গু নদীর তীরে গিয়ে প্রয়োজন সারতে হয় তাকে।

নদীর তীরেও স্বস্তি নেই বলে জানান তিনি। সেখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ গোসল করেন। কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নদীর পানি ব্যবহার করেন। তাদের উপস্থিতির মধ্যে প্রয়োজন সারতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় সুমিতাকে।

সুমিতা বলেন, “চিম্বুক এলাকা থেকে খুব ভোরে এসেছি। প্রস্রাবের চাপ আসায় এদিক-সেদিক অনেক খুঁজেছি, কিন্তু কোথাও টয়লেট পাইনি। বাধ্য হয়ে বাজারের পাশে সাঙ্গু নদীর তীরে নির্জন জায়গায় প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হয়েছে।” তিনি জানান, তার মতো অনেক পাহাড়ি নারী সাপ্তাহিক হাটে কলা, মিষ্টিকুমড়া ও নানা ধরনের কৃষিপণ্য বিক্রি করতে আসেন।

স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারে প্রতি সপ্তাহের রবিবার ও বুধবার বসে বড় সাপ্তাহিক হাট। এসব দিনে আশপাশের ও দূরদূরান্তের পাহাড়ি নারীরা কলা, শাকসবজি, মিষ্টিকুমড়া, ফলমূলসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। সাপ্তাহিক হাটের দিন ছাড়াও স্বাভাবিক দিনগুলোতে একই সমস্যায় পড়তে হয় নারীদের।

বিশেষ করে কিশোরী, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেককে দীর্ঘ সময় তা চেপে রাখতে হয়। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে খোলা জায়গায় যেতে বাধ্য হন। কেউ পরিচিত হোটেল কিংবা বাসাবাড়িতে গিয়ে প্রয়োজন সারেন, কিন্তু যাদের পরিচিত কেউ নেই, তাদের পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

ক্রেতা নুংমে মার্মা বলেন, “এই মার্মা বাজার শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, আশপাশের পাহাড়ি জনপদ থেকে আসা বহু মানুষের জীবিকারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দুর্গম এলাকা থেকে কৃষিপণ্য নিয়ে অনেক নারী ভোরে বাড়ি থেকে রওনা দেন। তাদের দিনের বড় একটি অংশ বাজারে কাটে। অথচ বাজারে মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকুও নেই।” বান্দরবান শহরের উজানীপাড়ার বাসিন্দা নুংমে মার্মা একই কথা বলেন।

মার্মা বাজারের অস্থায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নুংমেচিং মার্মা বলেন, “সাপ্তাহিক হাটের দিনে দূরদূরান্ত থেকে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। যাদের পরিচিতজন আছেন, তারা তাদের বাসাবাড়িতে যান। যাদের পরিচিত কেউ নেই, তারা বিভিন্ন হোটেলের টয়লেট ব্যবহারের চেষ্টা করেন। তবে অনেকে প্রয়োজনের সময় টয়লেটের ব্যবস্থা করতে না পেরে সাঙ্গু নদীর পাড়ে যেতে বাধ্য হন।”

কানাপাড়া থেকে আসা আরেক অস্থায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পুতি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “সাপ্তাহিক হাটের দিন ভোর তিনটা বা চারটার দিকে বাজারে আসতে হয়। এত ভোরে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়াও সম্ভব হয় না। তখন বাধ্য হয়ে সাঙ্গু নদীর পাড়ের নির্জন জায়গায় যেতে হয়।” আরেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মেপ্রুচিং মার্মা বলেন, প্রয়োজনের সময় তিনি পরিচিত কোনো হোটেলে যান, কিন্তু অনেক সময় হোটেল ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে খারাপ আচরণের শিকার হতে হয়।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “পাহাড়ি অঞ্চলের নারীরা এমনিতেই নানা দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন-সুবিধার অভাব তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। পাহাড়ি অঞ্চলের নারীদের মধ্যে প্রস্রাবের সংক্রমণের হার অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশি। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখা বা মূত্রপ্রবাহে দীর্ঘস্থায়ী বাধা সৃষ্টি হলে প্রস্রাবের সংক্রমণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি কিডনিরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।”

মানবাধিকারকর্মী ডনাই প্রু নেলি বলেন, “গণশৌচাগারের অভাব শুধু অস্বস্তি বা বিব্রতকর পরিস্থিতির বিষয় নয়, এটি নারীদের স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপদে জনপরিসর ব্যবহারের অধিকারের সঙ্গেও জড়িত।” তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাজারগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত শৌচাগার, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং নারীদের জন্য পৃথক ও ব্যবহারোপযোগী স্যানিটেশন-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বান্দরবান পৌরসভার পৌর প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক বলেন, “এ বিষয়ে পৌরসভার একটি দল সরেজমিনে মার্মা বাজার পরিদর্শন করবে। পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, মার্মা বাজারে আগে একটি পাবলিক টয়লেট ছিল, তবে সেটি অনেক আগেই অচল হয়ে পড়েছে। বাজারের কেউ টয়লেট নির্মাণের জন্য জায়গা দিতে পারলে সেখানে উন্নত মানের পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়া হবে। অন্যথায় বর্তমানে অচল অবস্থায় পড়ে থাকা টয়লেটটি সংস্কার করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা হবে বলে তিনি জানান।

জাতীয় বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

ঢাকার ছয়টি গণশৌচাগারের পরিচালন ব্যয় বহন করবে আইপিডিসি, ভূমিজের সঙ্গে অংশীদারত্ব

ঢাকার ছয়টি পাবলিক টয়লেট বা গণশৌচাগারের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করতে সামাজিক প্রতিষ্ঠান ভূমিজের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স প…

টেকনাফে যৌথ অভিযানে গুলি বিনিময়: এক সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ, উদ্ধার ৫৭ জন, জানাল আইএসপিআর
জাতীয়

টেকনাফে যৌথ অভিযানে গুলি বিনিময়: এক সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ, উদ্ধার ৫৭ জন, জানাল আইএসপিআর

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন সেন…

গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানে ঢুকল বালুবোঝাই লরি, নিহত মাসুদ সরকার
জাতীয়

গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানে ঢুকল বালুবোঝাই লরি, নিহত মাসুদ সরকার

গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দ্রুতগতির বালুবোঝাই লরি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ায় মাসুদ সরকার (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।…

পুলিশের ৭৮ পরিদর্শক একযোগে এএসপি হলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তিন প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতি
জাতীয়

পুলিশের ৭৮ পরিদর্শক একযোগে এএসপি হলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তিন প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতি

পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) পদ থেকে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে একযোগে ৭৮ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন।…