কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফেসবুক পোস্ট ঘিরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫, গুরুতর একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভৈরব পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এই সংঘর্ষ চলে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রাহাদ নামের এক যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ৪ থেকে ৫টি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মীরবাড়ির বাসিন্দা মাওলানা শাহরিয়ার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আমেরিকাপ্রবাসী ইকবাল মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয়দের জমি জোরপূর্বক দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ তুলে একটি লেখা ও ভিডিও পোস্ট করেন।
ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে একই এলাকার আমজাদ আলীর বাড়ির রায়হান মিয়ার সঙ্গে শাহরিয়ারের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে সংঘর্ষ দফায় দফায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ, ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, দুপুরে দক্ষিণপাড়া এলাকায় শাহরিয়ার ও রায়হান মিয়ার মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসাও করা হয়েছিল। তবে সন্ধ্যায় দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, সম্প্রতি ভৈরব শহরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসব ঘটনা এড়াতে সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



