পরিবারের টানে ডাবলিন থেকে নিউইয়র্কে ফেরার কথা ভাবছেন রোজি ও’ডোনেল

মার্কিন কৌতুকশিল্পী ও অভিনেত্রী রোজি ও’ডোনেল আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে নিউইয়র্কে থাকার কথা ভাবছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে আয়ারল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন তিনি। এখন পরিবারের কাছে থাকার টানেই ফেরার এই ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে ও’ডোনেল বলেছেন, ডাবলিন সুন্দর, তাঁরা সেখানে থাকতে ভালোবাসেন, কিন্তু তাঁর পরিবার সেখানে নেই। পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় নিউইয়র্কে ফেরার বিষয়টি নিয়ে তিনি ভাবছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ও’ডোনেল বলেছেন, তিনি তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের খুব মিস করেন। ছয় মাস আগে জন্ম নেওয়া নাতির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, নাতির জীবনের অর্ধেকটা তিনি ইতিমধ্যে মিস করে ফেলেছেন বলে মনে হয়, আর তিনি আরও মিস করতে চান না।
‘আ লিগ অব দেয়ার ওন’ ছবির এই তারকার চার সন্তান রয়েছে সাবেক স্ত্রী কেলি কার্পেন্টারের সঙ্গে, আর প্রয়াত সাবেক স্ত্রী মিশেল রাউন্ডসের সঙ্গে রয়েছে এক সন্তান। পরিবারের সেই সদস্যদের কাছাকাছি থাকার ইচ্ছাই ফেরার ভাবনার পেছনে রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
ফেরার ভাবনার পাশাপাশি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ও’ডোনেল। টিকটকে তিনি ডেমোক্র্যাটদের ‘ব্লু ওয়েভ’ বা নীল ঢেউয়ের প্রশংসা করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে এবং সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
টিকটকে ও’ডোনেল বলেছেন, ‘পৃথিবীতে এটি একটি সুন্দর সকাল। ট্রাম্প শাসনের অবসান হয়েছে, ধন্যবাদ আমেরিকা। আমি জানতাম আমরা পারব; মন থেকে জানতাম।’ তিনি আরও বলেছেন, মানুষ বিশ্বাস রেখেছে, ভোট দিতে এসেছে এবং ট্রাম্প ও তাঁর ‘নিষ্ঠুরতার অংশীদারদের’ কাছে জোরালো ও স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
নির্বাচনের রাতে ডাবলিনে থাকা ও’ডোনেল তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেছেন, ফলাফল আসার সময় জেগে থাকতে পারবেন বলে তিনি মনে করেননি; তিনি খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। রাত তিনটার দিকে সবার খুদে বার্তা আসতে শুরু করলে তিনি কেঁদে ফেলেন বলে জানিয়েছেন।
ও’ডোনেল বলেছেন, তিনি আবেগে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। সকালে উঠে গোসল করে তিনি নীল জাম্পার পরেছিলেন এবং বলেছিলেন, আজ তিনি নীল পরছেন। তিনি বলেছেন, দেশের সবাইকে নিয়ে তিনি গর্বিত এবং এই প্রশাসন দেশ ও বিশ্বের মানুষের ওপর যেসব ‘অসাংবিধানিক ও অন-আমেরিকান’ কাজ করেছে বলে তিনি মনে করেন, সেগুলোর কথা তিনি ভেবেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘তদন্ত শুরু হোক, সত্যিই। এটি একটি গৌরবময় দিন।’
‘গুড হ্যাং’ পডকাস্টে মঙ্গলবার ও’ডোনেল বলেছেন, ট্রাম্পই তাঁকে আবার ‘বিখ্যাত’ করে তুলেছেন এবং প্রেসিডেন্টকে তিনি ‘ভয়ংকর প্রাণী’ বলে অভিহিত করেছেন। এর জবাবে হোয়াইট হাউস ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ও’ডোনেলকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছে।
ও’ডোনেল ও ট্রাম্পের বিরোধ কয়েক দশকের পুরোনো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিরোধের সূত্রপাত ২০০৬ সালে, যখন ‘দ্য ভিউ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক থাকাকালে মাদক ব্যবহারসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এক মিস ইউএসএ বিজয়ীর প্রতি নরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ও’ডোনেল ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি আয়ারল্যান্ডে চলে যাওয়ার পর ট্রাম্প তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পের আরেক সমালোচক জিমি কিমেলের গভীর রাতের অনুষ্ঠানে অতিথি-উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব শেষ করেছিলেন ও’ডোনেল। শেষ উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি প্রেসিডেন্টকে ‘কমলা ভোল্ডেমর্ট’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং কিমেলকে আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, এই দেশে বাক্স্বাধীনতার অধিকার সবার রয়েছে।




