লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র হচ্ছেন নিত্যা রমন, দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মেয়র
লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের প্রগতিশীল সদস্য নিত্যা রমন বর্তমান মেয়র ক্যারেন বাসকে পরাজিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের প্রথম দক্ষিণ এশীয় মেয়র হতে যাচ্ছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই লড়াইয়ে রমনকে বিজয়ী ঘোষণা করে; সে সময় তিনি ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
৪৫ বছর বয়সী রমন এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলেছেন, যার পেছনে ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও সাবেক হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির মতো বিশিষ্ট ডেমোক্র্যাটরা।
রমনের প্রচারকে সমর্থন দিয়েছিল ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)। বামপন্থী এই রাজনৈতিক আন্দোলনের দৃশ্যমানতা ও নির্বাচনী জয়ের ধারার অংশ হিসেবেই তার এই জয় এসেছে।
ডিএসএ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ডিএসএ-সমর্থিত বা সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ফেডারেল পদে জিতেছেন। সংগঠনটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনে অন্তত ৩০০টি প্রার্থিতা বা ব্যালট গণভোটে অবদান রাখার কৃতিত্ব দাবি করেছে তারা, এবং সেগুলোর মধ্যে ১০৫টিকে জয় হিসেবে গণনা করার পথে রয়েছে।
কংগ্রেসের লড়াইয়েও ডিএসএ-সংশ্লিষ্ট জয় এসেছে — দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার, ক্লেয়ার ভালদেজ, মেলাত কিরোস ও ক্রিস র্যাবের মতো প্রার্থীরা প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে জিতেছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসে রমনের এই জয় এসেছে গত বছর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে আরেক বিশিষ্ট ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট জোহরান মামদানির জয়ের পর।
ভারতে জন্ম নেওয়া রমন রাজনীতিতে আসার আগে নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। একসময় বাসের মিত্র থাকা রমন প্রথমে তার পুনর্নির্বাচনী প্রচারকে সমর্থন দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে মত বদলে ফেব্রুয়ারিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মেয়র পদে প্রার্থী হন।
বিজয়ী ভাষণে রমন ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী, সৃজনশীল ও উদ্যোক্তা’ লস অ্যাঞ্জেলেস ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জনতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে আমাদের ভাঙা ও অন্যায্য স্থিতাবস্থা লস অ্যাঞ্জেলেসবাসীকে এটা বিশ্বাস করিয়েছে যে, এর চেয়ে ভালো কিছু আমরা করতে পারি না।’
রমন সাশ্রয়ী আবাসন সম্প্রসারণ, অবহেলিত নাগরিক সেবার উন্নতি এবং গৃহহীনদের সহায়তায় আরও বেশি চিকিৎসা দল মোতায়েন করে গৃহহীনতা মোকাবিলায় ভিন্ন পদ্ধতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি শহরের পুলিশপ্রধানকে বদলানোর আহ্বানও জানিয়েছেন।
এখন ৩৮ লাখের বেশি মানুষের এই শহরে নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব রমনের সামনে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সামনে ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের চ্যালেঞ্জও রয়েছে, যা ওই বছরের জুলাইয়ে শুরু হবে।
বৃহস্পতিবারের ফল অনুযায়ী, প্রায় দুই দশকের মধ্যে বাসই প্রথম লস অ্যাঞ্জেলেস মেয়র, যিনি পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে হেরেছেন। তার চার বছরের মেয়াদ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে — শহরের গৃহহীনতা সংকট ও প্রাণঘাতী প্যালিসেডস অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বেড়েছিল; ওই আগুন যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন বাস বিদেশে ছিলেন, এবং আগুনে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার বিভিন্ন জনপদ বিধ্বস্ত হয়।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বাস রমনকে অভিনন্দন জানিয়ে মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘চার বছর আগে আপনারা আমাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। যে শহর আমাকে বড় করেছে, সেই শহরের সেবা করার সম্মান আপনারা আমাকে দিয়েছিলেন, এবং তার পর থেকে প্রতিটি দিন আমি সেই দায়িত্ব বহন করেছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলেসের এখন আমাদের সবার কাছ থেকে প্রয়োজন এই শহরকে এগিয়ে নেওয়া।’




