বাল্টিমোরে নবজাতকের জন্য নগদ অর্থের ‘বেবি ফান্ড’ অনুমোদন দিলেন ভোটাররা

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর শহরের ভোটাররা মঙ্গলবার একটি ব্যালট প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন, যার মধ্য দিয়ে নতুন ও গর্ভবতী বাবা-মায়েদের নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য করদাতাদের অর্থে একটি কর্মসূচি চালু হচ্ছে। সারা দেশে পরিবারগুলো জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে থাকার সময়ই এই সিদ্ধান্ত এলো।
নভেম্বরের ব্যালটে ‘প্রশ্ন আই’ নামে থাকা প্রস্তাবটি বাল্টিমোর সিটি চার্টার সংশোধন করে পৌর বাজেটে ‘বাল্টিমোর বেবি ফান্ড’ নামে একটি নির্দিষ্ট ও স্থায়ী খাত তৈরি করেছে। প্রস্তাবটি প্রায় ৭০-৩০ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছে। ভোটে তোলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য আয়োজকরা প্রয়োজনীয় ১০ হাজার বৈধ স্বাক্ষরের চেয়েও বেশি জমা দিয়েছিলেন।
অনুমোদিত চার্টার সংশোধনী অনুযায়ী, শহরকে করযোগ্য সম্পত্তির মূল্যের প্রতি ১০০ ডলারে ৩ সেন্ট সরাসরি এই তহবিলে বরাদ্দ দিতে হবে। এতে প্রথম বছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার জোগাড় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিতে নথিভুক্ত বাল্টিমোর শহরের সব নবজাতক এককালীন নগদ অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবে। যোগ্য গর্ভবতী ও নতুন বাবা-মায়েরা অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তাও পেতে পারেন, যেমন গর্ভাবস্থায় এককালীন নগদ অর্থ অথবা মাসিক নগদ সহায়তা ও অন্যান্য ধরনের সাহায্য।
তবে অর্থ বিতরণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণের ক্ষমতা থাকবে বাল্টিমোর সিটি কাউন্সিলের হাতে, যা ভবিষ্যতে প্রণীত আইনের মাধ্যমে ঠিক হবে।
উদ্যোগটির পেছনে ছিলেন মেরিল্যান্ড চাইল্ড অ্যালায়েন্সের তৃণমূল আয়োজকরা এবং বাল্টিমোরের মেয়র ব্র্যান্ডন স্কট। স্কট ‘মেয়রস ফর গ্যারান্টিড ইনকাম’ সংগঠনের জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বেবি ফান্ডের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেছেন, এটি নবজাতক আছে এমন পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ানো।
ইকোনমিক সিকিউরিটি প্রজেক্টের (ইএসপি) নগদ উদ্যোগের পরিচালক শাফেকা হাশাশ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ‘বাল্টিমোরের ভোটাররা নতুন বাবা-মায়েদের সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়ার জন্য একটি বেবি ফান্ডের মূল্য দেখেছেন দেখে আমরা অবাক হইনি।’ ইএসপি সারা দেশে কয়েক ডজন গ্যারান্টিড ইনকাম কর্মসূচি তৈরিতে সমর্থন দিয়েছে।
হাশাশ বলেন, ‘এই মুহূর্তে মুদিসামগ্রী, গ্যাস, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুযত্নের মতো মৌলিক জিনিসের খরচ বাড়তেই থাকায় এবং বেতন তার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় পরিবারগুলো সংসার চালাতে পারছে না। তার ওপর নতুন বাবা-মায়েদের ক্ষেত্রে নতুন খরচ যোগ হয়ে এই সামর্থ্যের সংকট আরও ঘনীভূত হয়; এ কারণেই গর্ভাবস্থার শেষ মাস থেকে জন্মের প্রথম মাসে দারিদ্র্য ৪৫ শতাংশ বেড়ে যায়।’
তাঁর ভাষ্যে, ঠিক সেই সংকটময় পরিবর্তনের মুহূর্তে সরাসরি নগদ অর্থ ডায়াপার বা নতুন দোলনার মতো দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে পারে, আবার প্রসূতি ওয়ার্ডের বিল বা ডে-কেয়ারের খরচের মতো বড় আর্থিক চাপেও স্বস্তি দিতে পারে। ভোটাররা এই নীতিটি স্বভাবতই বুঝেছেন, কারণ এটি সহজ; আর এটি দক্ষ ও কার্যকর হবে বলেও তাঁরা মনে করেন।
বাল্টিমোরের সরকারি রেডিও স্টেশন ডব্লিউওয়াইপিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রচারণার ব্যবস্থাপক এমিলি ইউ তৃণমূলের এই গতির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি কর্মচারী ও সমাজের সদস্য যাঁরা এটি ঘটাতে চেয়েছিলাম, আর এটি যে ঘটাতে পেরেছি তা বেশ অবিশ্বাস্য। তবে এটি বাল্টিমোর শহরের জনগণের শক্তিরই কথা বলে। স্পষ্টতই এর চাহিদা আছে, তাই আমি অন্য গোষ্ঠীগুলোকেও একই কাজ করতে উৎসাহিত করব।’




