…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আমেরিকা › খবর
আমেরিকা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় ডেমোক্র্যাটদের, এবার প্রতিশ্রুতি পূরণের চাপ বিজয়ীদের ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় ডেমোক্র্যাটদের, এবার প্রতিশ্রুতি পূরণের চাপ বিজয়ীদের ওপর
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে এই বিজয়ের মধ্য দিয়েই ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণের বড় দায়িত্ব এসে পড়েছে দলটির বিজয়ী নেতাদের ওপর — নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন তাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

আলজাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রচারে ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং তার কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও অর্থনীতিবিদ ডিন বেকার বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি হতে পারে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া।

বেকারের মতে, কংগ্রেসের তদন্ত ও তদারকির ক্ষমতা ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপ সৃষ্টি করতে পারেন, আর এতে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

প্রগতিশীল অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভের নীতি ও প্রচারবিষয়ক প্রধান অ্যালেক্স জ্যাকেজের মতে, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন কমিটিকে কাজে লাগিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ বিল পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে দাম বাড়ানো কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে পারেন।

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিশংসনের উদ্যোগও নিতে পারেন। এরই মধ্যে আইনপ্রণেতারা কয়েকটি অভিযোগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব এনেছেন; অভিযোগগুলোর একটি হলো, কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়েই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন।

তবে প্রতিনিধি পরিষদে কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলেও বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে সিনেটে বিচারের মাধ্যমে, যেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ তার মেয়াদের শুরু থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। গত দুই বছরে তার পরিবারের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ক্রিপ্টোকারেন্সি, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারসহ বিভিন্ন খাতে ছড়িয়েছে, আর এসব খাত সরকারের নীতিগত সুবিধাও পেয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এগুলো নিয়েও তদন্ত শুরু করবেন ডেমোক্র্যাটরা।

পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি মনে করেন, এই সময়টিই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করার জন্য ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি বলেছেন, অপমান ও পরাজয়ের মুখে ট্রাম্প আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন — এমন একটি প্রবণতা তার মধ্যে দেখা গেছে।

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বাধ্যতামূলক প্রস্তাবও আনতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার একক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, আর ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী অনুমোদনহীন কোনো সংঘাত ৬০ দিন অতিক্রম করলে তা বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারেন আইনপ্রণেতারা।

তবে ডেমোক্র্যাটদের আনা প্রস্তাবে ট্রাম্প ভেটো দিতে পারেন, ফলে এসব উদ্যোগ সফল হবে — এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো সরকারি ব্যয়ের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ।

অভিবাসন ইস্যুতেও চাপের মুখে প্রশাসন। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই তাদের কর্মকাণ্ডে ‘সীমা ছাড়িয়ে গেছে’।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা আইসিই এবং এই অভিযানে যুক্ত অন্যান্য সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারেন। জাতীয় অভিবাসন আইন কেন্দ্রের নীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হেইডি অল্টম্যান বলেছেন, গত দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের জন্য প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে, এবং কংগ্রেস চাইলে সেই অর্থের বড় অংশ ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে। অল্টম্যানের ভাষায়, অভিবাসন অভিযান ধীর করা এবং প্রকৃত অর্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া চালু করার একমাত্র উপায় হলো তাদের বাজেট ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া; বিপুল এই অর্থের কারণেই আইসিই প্রায় কোনো বাধা ছাড়াই কাজ করতে পারছে বলে তিনি মনে করেন।

আমেরিকা বিভাগের আরও খবর

ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মারক ঘোষণা করলেন ট্রাম্প, ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টরাও বদলাতে পারবেন না
আমেরিকা

ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মারক ঘোষণা করলেন ট্রাম্প, ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টরাও বদলাতে পারবেন না

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে ওভাল অফিস, আউটার ওভাল অফিস এবং ক্যাবিনেট রুমকে জাত…

বাল্টিমোরে নবজাতকের জন্য নগদ অর্থের ‘বেবি ফান্ড’ অনুমোদন দিলেন ভোটাররা
আমেরিকা

বাল্টিমোরে নবজাতকের জন্য নগদ অর্থের ‘বেবি ফান্ড’ অনুমোদন দিলেন ভোটাররা

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর শহরের ভোটাররা মঙ্গলবার একটি ব্যালট প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন, যার মধ্য দিয়ে নতুন ও গর্ভবতী বাবা-মায়েদের নগদ সহায়তা দেওয়ার জ…

ইরান যুদ্ধে নেতানিয়াহু ‘সবকিছুতেই ভুল’—ব্যক্তিগতভাবে বললেন ভ্যান্স, প্রতিবেদন অ্যাক্সিওসের
আমেরিকা

ইরান যুদ্ধে নেতানিয়াহু ‘সবকিছুতেই ভুল’—ব্যক্তিগতভাবে বললেন ভ্যান্স, প্রতিবেদন অ্যাক্সিওসের

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ব্যক্তিগতভাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘সবকিছুতেই ভুল’ বলে অভিযুক্ত কর…

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে বর্তমান মেয়র কারেন বাসকে হারালেন নিত্যা রমন
আমেরিকা

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে বর্তমান মেয়র কারেন বাসকে হারালেন নিত্যা রমন

ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নিত্যা রমন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে বর্তমান মেয়র কারেন বাসকে পরাজিত করেছেন। একসময় দীর্ঘ সম্ভাবনার প্রার্থী হিসেবে …