সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সাভার-আশুলিয়ায় চালু ৮৮ পোশাক কারখানা, শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে চালু রয়েছে ৮৮টি পোশাক কারখানা। এসব কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। পুরো এলাকায় পরিস্থিতি রয়েছে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষও হয়।
এরই মধ্যে সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানা খোলা ছিল। সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ নিয়ে মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৯ নভেম্বর।
শিল্প পুলিশ জানায়, স্বাভাবিক সময়েও ছুটির দিনে কোনো কোনো কারখানা খোলা রাখা হয়। বিশেষ করে যাদের জরুরি শিপমেন্ট থাকে, তাদের অনেকেই কারখানা খোলা রাখেন। শুক্রবার ছুটির দিনে খোলা থাকা ৮৮টি কারখানায় সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোয়েব আহম্মেদ বলেন, পরিস্থিতি সব স্বাভাবিক রয়েছে। এমনিতে শুক্রবার ছুটির দিনে কারখানা বন্ধ থাকে, তবে যাদের জরুরি প্রয়োজন থাকে, তাঁরা কারখানা চালু রাখেন। এ রকম ৮৮টি কারখানা চালু রয়েছে আজ। পুরো এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে বলে তিনি জানান।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে পুরো শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক। জরুরি প্রয়োজন রয়েছে এমন ৮৮টি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এসব কারখানায় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, স্বাভাবিক সময়েও কিছু কারখানা ছুটির দিনে চালু থাকে নানা জরুরি প্রয়োজনে। তাঁরা ইতিমধ্যে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। শিল্পাঞ্চলে বৃহস্পতিবার থেকেই একধরনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল। পুরোদমে কাজ শুরু হলেও পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।
খাইরুল মামুন মিন্টু আরও বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখন মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের দাবি ও অসন্তোষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শ্রমিকদের আপাতত কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদন সচল রাখা প্রয়োজন। তবে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলে কাজে ফেরা কঠিন হবে। তাই শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশি তল্লাশি বা হয়রানির অভিযোগের মতো পরিস্থিতি বন্ধ করে তাঁদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি বলেন।



