যুক্তরাজ্যে বাড়ির দামে তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন, অক্টোবরে কমেছে ০.৬ শতাংশ

যুক্তরাজ্যে অক্টোবরে বাড়ির দাম তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে কমেছে। এটি টানা চতুর্থ মাসিক পতন। উচ্চ বন্ধকি (মর্টগেজ) সুদের হার আবাসন বাজারে চাপ তৈরি করছে।
ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান লয়েডসের হিসাবে, গত মাসে যুক্তরাজ্যের একটি সাধারণ সম্পত্তির গড় দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২৮৫ পাউন্ড। সেপ্টেম্বরের তুলনায় দাম অপ্রত্যাশিতভাবে ০.৬ শতাংশ কমেছে, যা ২০২৩ সালের আগস্টে লয়েডসের রেকর্ড করা ১.৬ শতাংশ পতনের পর সবচেয়ে বড় পতন।
বিশ্লেষকেরা মাসিক ভিত্তিতে দাম ০.১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তা হলে জুনের পর সেটিই হতো প্রথম মাসিক বৃদ্ধি।
গত বছরের একই মাসের তুলনায় বাড়ির দাম কমেছে ১.২ শতাংশ, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।
লয়েডসের মর্টগেজ পরিচালক অ্যান্ড্রু আসাম বলেন, ‘চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবাসনের চাহিদা এখন পরীক্ষার মুখে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আংশিক প্রভাবে নতুন করে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতির চাপ ঋণের খরচ উঁচুতে রাখছে এবং পরিবারের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে, ফলে কিছু ক্রেতা স্বাভাবিকভাবেই আরও সতর্ক হয়ে উঠছেন।’
ক্রেতাদের ক্রমেই উঁচু ঋণখরচের মুখে পড়তে হচ্ছে। সর্বশেষ মানিফ্যাক্টস বাজার হালনাগাদ অনুযায়ী, গড় দুই বছরের স্থির মর্টগেজের হার ৫.৯৭ শতাংশ এবং গড় পাঁচ বছরের স্থির হার ৫.৯৯ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে এলো, যখন তার এক দিন আগেই ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কমিটি ইরান যুদ্ধের সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ভিত্তি সুদের হার এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করেছে, যা তিন বছরের মধ্যে প্রথম বৃদ্ধি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে তুলে দিয়েছে, ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
রিচমন্ডের এস্টেট এজেন্সি অ্যান্টনি রবার্টসের বিক্রয় প্রধান অ্যামি রেনল্ডস বলেন, বছরের শেষের দিকে আসতে বাজার কিছুটা গতি হারিয়েছে, ক্রেতারা আছেন তবে সতর্ক আছেন, এবং সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন যাঁরা পুনরায় মর্টগেজ নিচ্ছেন এবং যাঁরা আরেকটি শোবার ঘরের জন্য বড় বাড়িতে যেতে চাইছেন। তাঁর ভাষায়, আসল ক্ষতিটা মানসিক—আরেকটি হার বৃদ্ধি মানুষকে বোঝায়, ঋণ সস্তা নয়, আরও দামি হচ্ছে, আর তাতেই তারা দ্বিধায় পড়ে।
সম্পত্তি সেবা প্রতিষ্ঠান স্যাভিলস এ সপ্তাহে বলেছে, অর্থনীতি ও মর্টগেজ সাশ্রয়ের পূর্বাভাসভিত্তিক উন্নতি পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করবে বলে আশা করা ২০২৮ সালের আগে যুক্তরাজ্যের মন্থর আবাসন বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই।




