অস্ট্রেলিয়ায় ধাক্কাধাক্কির দৌড় ও চড় মারার প্রতিযোগিতায় মৃত্যু ‘স্পষ্ট সম্ভাবনা’, সংসদীয় তদন্তে স্নায়ু বিশেষজ্ঞ

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে সংসদীয় তদন্তে বলা হয়েছে, দুই প্রতিযোগীর পরস্পরের দিকে দৌড়ে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খাওয়ার প্রতিযোগিতা ‘রান নেশন’ এবং পালাক্রমে মুখে চড় মারার প্রতিযোগিতা ‘পাওয়ার স্ল্যাপ’-এর আঘাত পেছন থেকে অতর্কিত ঘুষির আঘাতের মতোই, এবং এসব প্রতিযোগিতায় মৃত্যু একটি ‘স্পষ্ট সম্ভাবনা’।
নিউ সাউথ ওয়েলসের এই তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, উদীয়মান এসব প্রতিযোগিতাকে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য যুদ্ধক্রীড়া (কমব্যাট স্পোর্টস) হিসেবে বিবেচনা করা উচিত কি না।
কনকাশন ও সিটিই (ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথি) বিশেষজ্ঞ স্নায়ুচিকিৎসক ডা. রোয়েনা মবস তদন্তে বলেন, কোনো ধরনের পরিবর্তনেই এসব খেলা নিরাপদ করা যাবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘কলিশন রানিং ও পাওয়ার স্ল্যাপ চোখে খোঁচা দেওয়ার চেয়েও খারাপ, এগুলোকে অতর্কিত আঘাত হিসেবে গণ্য করা উচিত, কারণ মৃত্যু একটি স্পষ্ট সম্ভাবনা।’
গত বছর নিউজিল্যান্ডে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান; তিনি ভাইরাল ‘রান ইট স্ট্রেইট’ চ্যালেঞ্জ থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে করা একটি ট্যাকলিং খেলা খেলছিলেন। রান নেশনের আয়োজকদের দাবি, তাদের প্রতিযোগিতা রাগবি লিগের ‘হিট-আপ’-এর একটি নিরাপদ সংস্করণ।
তদন্তটি গঠিত হয় আগস্টে। সেপ্টেম্বরে নিউ সাউথ ওয়েলসের সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি রায় দেন, রান নেশন একটি যুদ্ধক্রীড়া; সেই রায়ে ওই মাসে সিডনির একটি আয়োজনের জন্য কমব্যাট স্পোর্টস অথরিটির (সিএসএ) বাতিলের নোটিশ বহাল থাকে।
সিএসএর চিকিৎসা উপদেষ্টা বোর্ড অনুমতি অনুমোদন করায় ওই আয়োজনটি এখন ২৮ নভেম্বরের জন্য পুনঃনির্ধারিত হয়েছে। পাওয়ার স্ল্যাপ এখনো অস্ট্রেলিয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন করেনি।
সিএসএর চেয়ার ড্যারেন কেন শুক্রবার তদন্তে বলেন, তিনি নতুন যুদ্ধক্রীড়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় দেখতে চান, যেখানে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সহায়ক কর্মী বাধ্যতামূলক থাকবে। তিনি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রিত আয়োজন হলে এসব ব্যবস্থা থাকবে, অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি থাকবে, তারা কনকাশন প্রশিক্ষণ নেবে, আয়োজনে চিকিৎসক বাধ্যতামূলক থাকবে। অনিয়ন্ত্রিত হলে পুরোটাই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া।’
রান নেশনের আয়োজকরা বলেছেন, তাদের আয়োজনে মাঠে চিকিৎসক ও প্যারামেডিক থাকেন। তদন্তে কোনো প্রতিযোগিতার আয়োজকদের বক্তব্য শোনা হয়নি, তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, বেয়ারনাকল বক্সিং ও তৃণমূল যুদ্ধক্রীড়া সংগঠনগুলোর জমা দেওয়া বক্তব্য পাওয়া গেছে।
প্রমোটারের লাইসেন্স ছাড়াই মিশ্র মার্শাল আর্ট, কিকবক্সিং ও বক্সিং লড়াই আয়োজনকারী ‘গেট দ্যাট গুয়াপ’ (জিটিজি) ফাইট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পেতেরো তারেমওয়া বলেন, অংশগ্রহণের খরচ যোদ্ধাদের জন্য ‘গুরুতর বাধা’, আর আয়োজকদের অনুমতি, বিমা, ভেন্যু ও চিকিৎসা সেবার জন্য উল্লেখযোগ্য খরচ বহন করতে হয়। তিনি বলেন, জিটিজির আয়োজনে উল্লেখযোগ্য কোনো আঘাতের ঘটনা ঘটেনি।
ডা. মবস বলেন, ফুটবল কোড ও ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধক্রীড়ার অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের রোগ হয় অসংখ্য ‘সাবক্লিনিক্যাল কনকাশন’ বা নীরব আঘাত জমে জমে। কিন্তু কলিশন রানিং ও চড় মারার প্রতিযোগিতার শক্তিশালী আঘাতে অনেক কম আঘাতেই পরবর্তী জীবনে স্নায়ুক্ষয়জনিত রোগ শুরু হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, এসব প্রতিযোগিতা থেকে আহত কোনো রোগীর চিকিৎসা করার কথা তার মনে পড়ে না।
মবসের যুক্তি, এসব আঘাত অতর্কিত ঘুষির মতোই, কারণ অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের রক্ষা করতে পারেন না এবং আঘাত আসে ‘ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে আঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি’। তদন্ত কমিটি ডিসেম্বরে তাদের প্রতিবেদন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।




