রাজকীয় ক্ষমায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধের পর গৃহবন্দির আদেশ পেলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব
মালয়েশিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে গৃহবন্দি অবস্থায় সাজা ভোগের অনুমতি দিয়েছে আদালত। রাজকীয় ক্ষমার পর তাঁর দল ১ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধ করায় এই আদেশ এসেছে বলে শুক্রবার তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন।
নাজিবের আইনজীবী ফারহান শাফি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আদেশটি হাতে পেয়েছেন এবং তা কাজাং কারাগারে পৌঁছে দিতে যাচ্ছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে শুক্রবার থেকেই নাজিবের গৃহবন্দি জীবন শুরু হতে পারে বলে তিনি জানান।
নাজিব ২০২২ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে (২০০৯-২০১৮) সহপ্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ (ওয়ানএমডিবি) থেকে কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ ও দুর্নীতির মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। নাজিব কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছেন।
মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম গত সেপ্টেম্বরে নাজিবকে ক্ষমা করতে সম্মত হন, যার ফলে তাঁর বাকি সাজা বাড়িতে ভোগের পথ খুলে যায়।
নাজিবের দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) তাঁর ৫ কোটি রিঙ্গিত (১ কোটি ২০ লাখ ডলার) জরিমানা পরিশোধে গণতহবিল সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে, কারণ তাঁর ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ রয়েছে।
কুয়ালালামপুর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক রব ম্যাকব্রাইড বলেন, এই সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক আলোড়ন তুলতে পারে এবং দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান রাজনীতি এই ক্ষমার সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ম্যাকব্রাইডের ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুর্নীতিবিরোধী ভূমিকার কারণে প্রকাশ্যে এই ক্ষমা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তবে নাজিবের দলের চাপে তিনি পর্দার আড়ালে ক্ষমাটি এগিয়ে নিতে সাহায্য করে থাকতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, ওয়ানএমডিবি তহবিল থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার চুরি হয়েছে এবং এর মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ নাজিবের সঙ্গে যুক্ত ছিল। নাজিবের দাবি, একটি জটিল বৈশ্বিক জালিয়াতি চক্রের জন্য তাঁকেই এককভাবে দায়ী করা হয়েছে।
আলাদাভাবে ওয়ানএমডিবি সংক্রান্ত আরেকটি বড় মামলায়ও নাজিব দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যেখানে অর্থপাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে তাঁকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়। তিনি ওই মামলায় আপিল করেছেন এবং খারাপ স্বাস্থ্য ও জরিমানা পরিশোধে অক্ষমতার কথা বলে সাজা ও জরিমানা স্থগিত চেয়েছিলেন, তবে গত সেপ্টেম্বরে একজন বিচারক সেই আবেদন খারিজ করে দেন।




