ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডে মানুষের সক্ষমতা বাড়াতে চায় সরকার, উদ্যোক্তা তৈরিতে কর্মসংস্থান: ঠাকুরগাঁওয়ে ত্রাণমন্ত্রী দুলু

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ এবং সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘তৃতীয় আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরি ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জনগণের কষ্ট লাঘবে বিভিন্ন স্তরে কাজ করে যাচ্ছি। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়া হচ্ছে, যাতে মানুষের সক্ষমতা বাড়ে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। এতে মানুষের আয়-রোজগার বাড়বে।’
স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শিশুরা ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলার মধ্যে বেড়ে উঠলে তাদের জীবন সুন্দর হবে এবং তারা সমাজের নানা অনিয়ম ও বৈষম্য থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে তরুণ ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ মাদক ও ক্যাসিনো আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। নতুন প্রজন্মকে এসব থেকে দূরে রাখতে স্কাউটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় স্কাউট সদস্যদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা কীভাবে দুর্যোগের সময় মানুষকে সহায়তা করতে পারে এবং সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
‘নীল আকাশ, সবুজ বন—স্কাউটিংয়ে গড়ি জীবন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই ক্যাম্পুরিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ২০০ ক্ষুদে স্কাউট অংশ নিচ্ছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আত্মনির্ভরশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ক্যাম্পুরিতে নানা শিক্ষামূলক, সৃজনশীল ও আনন্দঘন আয়োজন রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব মো. আবু আউয়াল, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুরের সচিব প্রফেসর নূর মো. আব্দুর রাজ্জাক, ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাস হোসেন।
আয়োজকদের আশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা পড়ালেখার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের নানা দক্ষতা অর্জন করবে এবং ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।




