ইরান নিয়ে উত্তেজনা না বাড়াতে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন কাতারের আমির, হরমুজ নিয়েও ফোনালাপ
যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুজনের মধ্যে এই ফোনালাপ হয়।
কাতার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফোনালাপে ইরান প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয়েছে। এ সময় শেখ তামিম ইরানের বিরুদ্ধে উত্তেজনা না বাড়াতে ট্রাম্পকে সতর্ক করেন এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
বিবৃতি অনুযায়ী, দুই নেতার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাধীনভাবে জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এদিকে পরমাণু ইস্যুতে কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে ওয়াশিংটন তেহরানের সাতটি দাবি পূরণ করলেই কেবল সেই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইরান জানিয়েছে।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী মিত্র কাতারের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রস্তাবটি যাচাই ও পর্যালোচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাত অবসানের চেষ্টা জোরদার করেছেন।
ট্রাম্প মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে যুদ্ধ আবার শুরু হলে ইরান আরও বড় ধরনের প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, কূটনীতির ক্ষেত্রে তারা আমেরিকানদের সাতটি শর্ত দিয়েছেন। শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবেন না এবং কোনো আলোচনাতেও বসবেন না বলে তিনি জানান।

