যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সম্পদে আঘাতের হুমকি ইরানের সামরিক মুখপাত্রের
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে ফের হামলা শুরু করে, তাহলে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সম্পদ ও স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
আজ শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া বলেছেন, ‘আমাদের শত্রুপক্ষের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরেও অনেক ঘাঁটি রয়েছে এবং সেসব ঘাঁটিতে তাদের সরঞ্জাম ও বাহিনী মোতায়েন আছে। যদি ফের ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা ঘটে, তাহলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা না করে, অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন শত্রুর সমস্ত বস্তুগত ও অবস্তুগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ নতুন করে শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন।
ট্রাম্প মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কূটনীতির ক্ষেত্রে আমরা আমেরিকানদের কাছে সাতটি শর্ত দিয়েছি। যতক্ষণ না তারা আমাদের এই সাতটি শর্ত পূরণ করছে, ততক্ষণ আমরা হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করব না, কোনো আলোচনাতেও বসব না।’
রেজায়ি জানিয়েছেন, এই সাত শর্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানের জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। একই সময়ে লেবাননেও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি এই সংঘাত ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; সেখান থেকে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

