স্ত্রীর ক্যান্সারজয়ের পর বদলে গেছে টিকনারের জীবনদর্শন, এখন হাসিমুখে খেলতে চান কিউই পেসার
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুতে অতিরিক্ত চাপের মুখে থাকলেও পরিবারের এক বড় ঝড়ের পর জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শুরু করেছেন নিউজিল্যান্ডের পেসার ব্ল্যায়ার টিকনার। স্ত্রীর ক্যান্সার জয় এবং মাঠের বাইরে পাওয়া অভিজ্ঞতা তাঁর ভেতরে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের এপ্রিলে টিকনারের স্ত্রী সারাহর লিউকেমিয়া বা রক্তে ক্যান্সার ধরা পড়ে। টানা আট মাসের কঠিন চিকিৎসা ও সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ক্রিসমাসের প্রাক্কালে তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন।
এই ব্যক্তিগত সংকট টিকনারের চিন্তায় পরিবর্তন এনেছে। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে তাঁর মধ্যে সব সময় এক ধরনের অদৃশ্য চাপ কাজ করত। তবে স্ত্রীর অসুস্থতা ও সেরে ওঠার দীর্ঘ পথ তাঁকে শিখিয়েছে, ক্রিকেট জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাত্র, পুরো জীবন নয়।
টিকনার বলেন, এখন তিনি মাঠে নিজের স্বাভাবিক খেলা উপভোগ করতে চান এবং মুখে হাসি নিয়ে খেলতে নামেন। দিন শেষে স্ত্রী ও মেয়ের কাছে নিরাপদে ফিরে যেতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় শান্তি ও প্রাপ্তি।
সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওডিআই ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের জন্য খুব একটা সুখকর না হলেও টিকনারের একটি ইনিংস দলের ভক্তদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। অকল্যান্ডের বৃষ্টিবিঘ্নিত ওই ম্যাচে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি ২৩ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন। ১০ নম্বর ব্যাটার জ্যাকব ডাফির সঙ্গে তাঁর শেষ উইকেটে ৪১ রানের জুটি গড়ে ওঠে।
হাসির ছলে টিকনার জানান, ব্যাটিং অর্ডারে ১০ নম্বরের পর ধীরে ধীরে আরও ওপরে, এমনকি ৩ নম্বর পজিশনে উঠে আসাই তাঁর লক্ষ্য।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওয়েলিংটনে। এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই ভেন্যুতে পেসারদের জন্য সহায়ক পিচে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন টিকনার।
তবে টিকনার জানান, অকল্যান্ডের ইডেন পার্কের ছোট বাউন্ডারির চেয়ে ওয়েলিংটনের মাঠের আকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় এখানকার পরিকল্পনাও আলাদা। ওয়েলিংটনে স্কয়ার বাউন্ডারি ছোট হলেও স্ট্রেইট বাউন্ডারি বেশ লম্বা, তাই বিশেষ করে ডেথ ওভারের বোলিংয়ে নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নামতে হবে।



