যুক্তরাজ্যে মৃদু শরতে ছয় মাস আগেই গাছে বসন্তের ফুল, পরাগবাহীদের নিয়ে উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

যুক্তরাজ্যে শরতের মৃদু তাপমাত্রায় গাছে ছয় মাসের বেশি আগেই বসন্তের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সময়ের আগেই এই ফুল ফোটা পরাগবাহীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
গত মাসে যুক্তরাজ্যের সব অংশেই তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে বেশি ছিল। অক্টোবর ছিল টানা নবম মাস, যখন গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে।
উডল্যান্ড ট্রাস্টের সংরক্ষণ ফলাফলবিষয়ক প্রধান ক্রিস নিকোলস বলেন, এই শরতের মৃদু আবহাওয়ায় হর্স চেস্টনাট গাছে ফুল ফুটছে এবং আগামী বসন্তের বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা সময়ের ছয় মাসের বেশি আগে।
এই গ্রীষ্মের চরম গরমে অনেক গাছে আগাম শরতের মতো অবস্থা দেখা গিয়েছিল; গাছগুলো শুকিয়ে গিয়ে সময়ের আগেই পাতা ঝরিয়ে ফেলেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ইংল্যান্ডের প্রাচীন ওক গাছগুলো উচ্চ তাপমাত্রা ও খরায় মারা যাচ্ছে, কারণ গাছ ও বাস্তুতন্ত্র পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে যথেষ্ট দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারছে না।
নিকোলস বলেন, সবকিছুই এলোমেলো হয়ে গেছে, আর পরাগবাহীদের ক্ষেত্রে এই আগাম বসন্ত বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষায়, গাছকে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ফুল ফোটাতে হয় যাতে তা পোকামাকড়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে; এই ছন্দ ভেঙে গেলে তা একটি বাস্তুসংস্থানগত অসামঞ্জস্য তৈরি করে।
উডল্যান্ড ট্রাস্টের নাগরিক বিজ্ঞান ব্যবস্থাপক ড. কেট লুইথওয়েট বলেন, গাছে আগাম ফুল ফোটা চাপের লক্ষণ। তাঁর ধারণা, খরার কারণে গাছগুলো শীতকালে যেমন হয়, তেমনভাবে জরুরি ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল; এরপর বৃষ্টি এলে তা গাছগুলোকে ঋতুর বাইরে বসন্তের ফুল ফোটাতে উৎসাহিত করেছে।
লুইথওয়েট আরও বলেন, এতে পুরো গাছটি মারা যেতে পারে কিংবা কাণ্ড বা ডালের সুপ্ত কুঁড়ি থেকে আবার পাতা গজাতে বাধ্য হতে পারে, ফলে আগামী বছর গাছের ছাউনি অনেক ছোট হয়ে যাবে। বনভূমিকে আবার ভেজানো এবং বৃষ্টির পানির প্রবাহ ধীর করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
কিউ গার্ডেনসের বৃক্ষ সংগ্রহের প্রধান কেভিন মার্টিন বলেন, কিউয়ের বৃক্ষ উদ্যানের গাছগুলোতেও আগাম বসন্তের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গাছগুলো এই গ্রীষ্মে এতটাই চাপে ছিল যে সেগুলো সুপ্ত অবস্থায় চলে গিয়েছিল, আর এখন উষ্ণ মৃদু অবস্থায় আবার বৃদ্ধিতে ফিরছে; এর অর্থ হলো বসন্তে সেগুলোর আর ওই কুঁড়িগুলো থাকবে না।
মার্টিন বলেন, এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা ২০২৮ সালের বসন্তের আগে জানা যাবে না। তিনি আরও বলেন, গাছগুলো এ বছর খুব কম বেড়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্বে যেখানে খরা ছিল উল্লেখযোগ্য, আর দুর্বল হয়ে পড়ায় ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনাও বেড়েছে।



