ফতুল্লায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪২ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এজাহারভুক্ত ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে এ মামলা করেন। মামলার পর শিবু (৪২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ ও শাহাদাত হোসেন সেন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি টিপু সুলতান, যুবলীগ নেতা আজমত আলী, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু ও ওয়াসিম, আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর এবং ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিম।
এ ছাড়া আসামি করা হয়েছে কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এজাহারে উল্লিখিত মীর হোসেন মিরু, রঞ্জিত মণ্ডল, ইব্রাহীম চেঙ্গীস, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দীন, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু শরিফুল হক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম, ইমরান হোসেন শুভ ওরফে চান শুভ ও আল আমিন কবিরকে।
তালিকায় আরও রয়েছেন জাকারিয়া জাকির ওরফে জাকির মেম্বার, রতন, রাকিব এবং শাহ নিজামের সহযোগী হিসেবে এজাহারে উল্লিখিত রাজ্জাক। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, অর্থায়ন ও পরিকল্পিত নাশকতার চেষ্টা ছিল। গত ৪ নভেম্বর কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এ মামলা করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৪ নভেম্বর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফতুল্লার কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট ও ইরান টেক্সটাইল এলাকার আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার ও মডার্ন গার্মেন্টসসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শ্রমিক একত্রিত হয়ে কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে টায়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় অবরোধের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগোনোর চেষ্টা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন যানবাহনের কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা টিয়ার গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও কালার স্মোক গ্রেনেড ব্যবহার করেন। এজাহারে উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী, দুই বাহিনীর সদস্যরা মোট ২০৩টি লং সেল, ৪৪টি শর্ট সেল, ২৪টি সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড ও পাঁচটি টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেন।
পুলিশের দাবি, এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে সরে যান। পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় শিবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় শিবু নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।




