প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চাকরি যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে, নতুন কর্মসংস্থান ১ লাখ ৬৫ হাজার, বেকারত্ব কমে ৪.১ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও মুদ্রাস্ফীতির মধ্যেও শ্রমবাজারের স্থিতিস্থাপকতার ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অক্টোবরে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত নতুন তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছিলেন, শ্রমবাজার ‘কম নিয়োগ, কম ছাঁটাই’ অবস্থায় আটকে আছে, যেখানে চাকরির প্রবৃদ্ধি মন্থর হলেও ছাঁটাইও কম থাকে; তবে অক্টোবরের তথ্য অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএলএস) জানিয়েছে, বেকারত্বের হার সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশে।
গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় বার্ষিক ৩ দশমিক ১ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা গত মাসের তুলনায় সামান্য বেশি। গত কয়েক মাসে মুদ্রাস্ফীতি মূলত মজুরি বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে—যা প্রায়ই মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে আরও বেশি খরচের অনুভূতি দেয়। সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রাথমিক হিসাবও মোট ৮৪ হাজার চাকরি বাড়িয়ে সংশোধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও উৎপাদন খাতে চাকরির প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
এ সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত অন্য তথ্যেও কর্মসংস্থান স্থিতিশীল থাকার চিত্র মিলেছে। ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ছাঁটাই দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে, অন্যদিকে আউটপ্লেসমেন্ট প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাস অক্টোবরে মাত্র ৪৪ হাজারের কম ছাঁটাইয়ের হিসাব পেয়েছে—যা গত অক্টোবরের তুলনায় ৭১ শতাংশ কম।
নতুন তথ্যটি এসেছে একটি বড় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর, যা আগামী দুই বছরের জন্য কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেছে। একাধিক জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতির অবস্থা, বিশেষ করে গ্যাস ও মুদিখানার বেশি দাম নিয়ে আমেরিকানরা সবচেয়ে বেশি হতাশ ছিলেন।
নেভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং শুক্রবারের প্রতিবেদনের আগে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমেরিকানরা স্পষ্ট রায় দিয়েছে যে বর্তমান অর্থনীতি মানুষকে আর্থিকভাবে চাপে ফেলছে এবং জীবন চালানো, সামনে এগিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, কঠিন করে তুলছে।’ তিনি বলেন, ‘শ্রমবাজার এর একটি ভালো উদাহরণ যে মানুষ কেন হতাশ।’
কিন্তু আমেরিকানরা কখন স্বস্তি পাবেন, তা স্পষ্ট নয়। ইরান যুদ্ধের কারণে গ্যাসের দাম এক বছর আগের তুলনায় গড়ে গ্যালনপ্রতি ১ ডলার বেশি। সরবরাহ শৃঙ্খলজুড়ে বড় যানবাহন চালাতে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি।
একগুঁয়ে মুদ্রাস্ফীতির সময়ে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সাধারণত সুদের হার বাড়িয়ে হস্তক্ষেপ করে, যা দাম বৃদ্ধির গতি কমায়। সেপ্টেম্বরে ফেড মুদ্রাস্ফীতির কথা উল্লেখ করে ২০২৩ সালের পর প্রথমবার সুদের হার বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের সীমায় নিয়ে যায়। কর্মকর্তারা নির্বাচনের আগের সপ্তাহে অনুষ্ঠিত অক্টোবরের সর্বশেষ বৈঠকে হার স্থির রাখলেও অর্থনীতিবিদরা ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী বৈঠকে আরও একটি হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে, এআই ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে গত সপ্তাহে বাজারগুলোও কেঁপে উঠেছে। একটি সূচক তার সর্বশেষ শীর্ষ থেকে ১০ শতাংশ কমে যাওয়ার সংশোধনী এলাকায় পৌঁছানোর পর প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক বুধবার সংক্ষিপ্তভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও বৃহস্পতিবার আবার সংশোধনী এলাকায় নেমে যায়।


