ডেইলি মেইলের বিরুদ্ধে ফোন হ্যাকিং মামলা হেরে আপিলে প্রিন্স হ্যারিসহ ছয় তারকা, সামনে ৫ কোটি পাউন্ডের বিল

ডেইলি মেইলের প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপারসের বিরুদ্ধে ফোন হ্যাকিংসহ বেআইনি পন্থায় তথ্য সংগ্রহের মামলায় হেরে যাওয়ার পর সেই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি ও আরও পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি।
অন্য পাঁচজন হলেন নিহত কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর স্টিফেন লরেন্সের মা ডোরিন লরেন্স, গায়ক এল্টন জন ও তাঁর স্বামী ডেভিড ফার্নিশ এবং অভিনেত্রী এলিজাবেথ হার্লি ও স্যাডি ফ্রস্ট। মামলায় হেরে যাওয়ায় তাঁদের সামনে ৫ কোটি পাউন্ডের বেশি আইনি বিলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
জুলাইয়ে দেওয়া এক দ্ব্যর্থহীন রায়ে বিচারপতি নিকলিন তাঁদের মামলা খারিজ করে দেন। রায়ে তিনি বলেন, দাবিদাররা প্রমাণ করতে পারেননি যে কোনো তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
১১ সপ্তাহের বিচারের পর দেওয়া তাঁর ৪৩৬ পৃষ্ঠার লিখিত রায়ে বলা হয়, কোনো প্রতিবেদন সংগ্রহের বৈধ ও বাস্তবসম্মত আইনি উপায় থাকলে শুধু তা থেকে ধারণা করা যায় না যে প্রতিবেদনটি বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
শুক্রবার হ্যারি ও তাঁর পাঁচ সহ-দাবিদারের পক্ষে এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি, দাবিদাররা আজ আপিল আদালতে আবেদন দাখিল করেছেন—বিচারপতি নিকলিনের রায়ে তাঁদের দাবি খারিজ এবং ক্ষতিপূরণমূলক খরচের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘দাবিদাররা ওই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন, যেগুলোকে তাঁরা আইনগত ও তথ্যগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করেন।’
আদালতের কর্মীরা শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন, রায়গুলোর বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন আপিল আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
বিচারের সময় দাবিদারদের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছিলেন, বেসরকারি তদন্তকারী, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপারসের কর্মীরা ভয়েসমেইল আড়ি পেতে শোনা, ল্যান্ডলাইনে আড়িপাতা এবং প্রতারণার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ—যা ‘ব্ল্যাগিং’ নামে পরিচিত—এসব কাজ করেছেন।
তবে প্রকাশকের আইনজীবীরা বলেন, ডেইলি মেইল ও মেইল অন সানডের সাংবাদিকরা প্রতিবেদন বৈধভাবে সংগ্রহের ‘জোরালো বিবরণ’ দিয়েছেন—বন্ধু ও ‘ফাঁসপ্রবণ’ সামাজিক মহল, প্রেস কর্মকর্তা ও মুখপাত্র, আগের প্রতিবেদন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং অন্যান্য সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন থেকে।
অ্যাসোসিয়েটেডের আইনি দল দাবিগুলোকে ‘কুরুচিপূর্ণ’ ও ‘অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করে।
রায়ের পর মেইলের সাবেক সম্পাদক পল ডেকার বলেন, মামলাটি ছিল সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রচারকদের সাজানো এক ‘ষড়যন্ত্র’, যার লক্ষ্য ছিল একটি পত্রিকাকে ‘ধ্বংস’ করা।
হ্যারি ও লরেন্স রায়টিকে ‘সম্পূর্ণ ও স্পষ্ট ধামাচাপা’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁরা বলেন, ‘আদালত যখন বলে অন্যায়ের যথেষ্ট প্রমাণ নেই… তখন প্রশ্ন জাগে, ন্যায়বিচার আদৌ কীভাবে অর্জিত হতো।’
আগস্টে বিচারপতি নিকলিন রায় দেন, মোট অঙ্ক নির্ধারণের পরবর্তী শুনানির আগে প্রাথমিক অবদান হিসেবে দাবিদারদের সাত দিনের মধ্যে প্রকাশকের খরচ বাবদ ৯৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৫ পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে।



