ইয়েমেনের তাইজে বাজারে হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহতের দাবি, সরকারি বাহিনী ও হুতিদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়া জেলার আল-হাদারা বাজারে হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে। এই হামলা নিয়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতি গোষ্ঠী একে অপরকে দোষারোপ করছে। দুই পক্ষই বলছে, হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
হুতিরা শুক্রবার অভিযোগ করেছে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক সৌদি আরব বাজারে তিনটি বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত ও আরও আটজন আহত হয়েছেন বলে তারা জানিয়েছে।
হুতি নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় থাকা তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় রিয়াদের এই হামলাকে ‘ভয়াবহ অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। বেসামরিক মানুষদের ওপর সৌদি আরবের ‘পরিকল্পিত হামলার’ বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নাজিলি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী’ হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বাজারে হামলা চালিয়েছে, এতে বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী ‘যুদ্ধাপরাধ’ করেছে বলে অভিযোগ করে তিনি জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছেন।
এসব প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সানা থেকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারটি যে আল-ওয়াজিয়া জেলায় অবস্থিত, সেখানে লড়াই চলছে। এলাকাটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে; হুতিরা আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জেলাটি ও এর কৌশলগত পাহাড়ি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘যে পক্ষ আল-ওয়াজিয়া জেলার নিয়ন্ত্রণ নেবে, সে পক্ষ লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলরেখার বেশির ভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ নেবে।’
ইয়েমেনি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা তাইজ প্রদেশের কয়েকটি এলাকা পুনর্দখল করেছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে আল-নিদানি গ্রাম, শাব আল-সারারি, সানামাত এলাকার বড় অংশ এবং ধি আল-বারহের রিবাত আল-কার্ন এলাকা। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনী আল-সারারি এলাকার প্রবেশপথগুলো অবরোধ করেছে।
প্রদেশটির বড় অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তাইজ শহর সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরটিতে হুতিদের চলমান অবরোধ ৩০ দিন ধরে চলছে এবং এতে এলাকার লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করেছে, তাইজ শহরের ভেতরে খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহ ক্রমেই কমে আসায় সেখানে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুতি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো দখলে নিতে গত ৫ অক্টোবর ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ শুরু করে। এই সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইয়েমেনের সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকা কিংবা সৌদি আরব—কোনোটিই নিরাপদ থাকেনি।
হুতিরা প্রতিদিন সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটির আকাশপথে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।




