নাইজেরিয়ায় বিরোধী দলের নেতৃত্ব বাতিল আদালতের, আতিকু আবুবকরের প্রার্থিতাও অবৈধ ঘোষণা

নাইজেরিয়ার ফেডারেল হাইকোর্ট দেশটির বিরোধী দল আফ্রিকান ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসের (এডিসি) নেতৃত্ব বাতিল করে দিয়েছে। একই রায়ে দলটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সাবেক উপরাষ্ট্রপতি আতিকু আবুবকরের মনোনয়নও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এডিসি এক বিবৃতিতে এই রায়কে বিরোধীদের পঙ্গু করার আরেকটি মরিয়া চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই রায় এল।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৬ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবারও আবুবকর এবং আনামব্রা রাজ্যের সাবেক গভর্নর পিটার ওবির নামই প্রত্যাশিত ছিল।
একসময়ের শক্তিশালী পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে হতাশ হয়ে ২০২৫ সালে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক এডিসিতে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবুবকর, যিনি পিডিপি ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন, এবং সাবেক সিনেট সভাপতি ডেভিড মার্ক।
প্রভাবশালী নেতাদের জায়গা করে দিতে গিয়ে মার্ক দলটির অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। কিন্তু এডিসির সাবেক জাতীয় উপচেয়ারম্যান নাফিউ বালা গোম্বে আদালতে বলেন, এই প্রক্রিয়া আইনসম্মত ছিল না, কারণ মার্ক ও অন্যরা জাতীয় সম্মেলনে নির্বাচিত হননি।
গোম্বের দাবি, ২০২৫ সালে এডিসির সাবেক চেয়ারম্যান পদত্যাগ করার পর দলের নেতৃত্ব তাঁরই নেওয়ার কথা ছিল।
রাজধানী আবুজার ফেডারেল হাইকোর্ট এর আগেও দলটির নেতৃত্ব নিয়ে রায় দিয়েছে। গত জুলাইয়ে বিচারক মুসা লিমান অন্য এক সাবেক এডিসি সদস্যের আনা মামলায় বলেছিলেন, মার্ককে দেশের আইন ও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই বেছে নেওয়া হয়েছিল।
আবুবকর বলেছেন, সর্বশেষ মামলাটি গুরুতর আইনি প্রশ্ন তুলেছে। তিনি বলেন, ওই রায়ের পর একই বিরোধ আবার খোলার জন্য কেন আরেকটি মামলা করা হলো?
এডিসি বলেছে, বিচারপতি পিটার লিফুর বৃহস্পতিবারের রায়ের লক্ষ্য বিরোধীদের গতি স্তব্ধ করা এবং এটি ছিল এডিসিকে দুর্বল করা ও আবুবকরের প্রার্থিতা ব্যর্থ করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা। দলটি বলেছে, তারা আপিল আদালতে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করবে।
৭৯ বছর বয়সী আবুবকর ফেসবুকে এক বিবৃতিতে বলেছেন, রায় সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনে লড়বেন। তিনি লিখেছেন, যারা তাঁদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন, প্রত্যেক নাইজেরীয়র প্রতি তিনি স্পষ্ট করে বলতে চান—তিনি এই প্রতিযোগিতায় আছেন, কোথাও যাচ্ছেন না, তাঁরা ব্যালটে থাকবেন এবং কোনো হুমকি, ব্ল্যাকমেল বা আদালতের কৌশল তাঁকে ছাড়তে বাধ্য করবে না।
আবুবকর এর আগে রায়ের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রচার শুরু করতে সোকোটোতে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিশাল জনতা জড়ো হওয়ার মাত্র এক দিন পরই রায়টি এল।
নাইজেরিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় আদালতে নিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমান অবস্থায় নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে এবং সেই তালিকায় এডিসির প্রার্থী হিসেবে আবুবকরের নাম রয়েছে, তাঁর রানিং মেট রিভার্স রাজ্যের সাবেক গভর্নর রোটিমি আমায়েচি।
এডিসিকে প্রেসিডেন্ট টিনুবুর সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে দেখা হয়। ক্ষমতাসীন অল প্রগ্রেসিভস কংগ্রেসের (এপিসি) বিরোধী অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিক ইতোমধ্যে এই দলে যোগ দিয়েছেন।
এই আইনি টানাপোড়েন পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। এতে এডিসির শত শত প্রার্থীর বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং কে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার রাখেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
অন্য প্রধান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পিটার ওবি বলেছেন, বৃহস্পতিবারের হাইকোর্টের রায়ে তিনি হতবাক। এক্সে দেওয়া বিবৃতির শিরোনামে তিনি লিখেছেন, ‘গণতন্ত্রকে দুর্বল করবেন না’।
৬৫ বছর বয়সী ওবি বলেছেন, সাধারণ নির্বাচনের তিন মাস আগে জনস্বার্থেই নিশ্চয়তা থাকা দরকার—এটাই তাঁর উদ্বেগ। ওবি কিছুদিন এডিসিতে যোগ দিয়েছিলেন, তবে আংশিকভাবে দলটির ভেতরের আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে এ বছরের শুরুতে তা ছেড়ে নাইজেরিয়া ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসে (এনডিসি) যোগ দেন।
ওবি বলেছেন, পশ্চিম আফ্রিকায় সামরিক শাসন বিস্তারের মধ্যে নাইজেরিয়ার গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা বিরোধী রাজনীতি রক্ষা করার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করা উচিত, বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করা নয়। এনডিসির প্রার্থী বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হলে তিনি বিরোধী দলগুলোর অস্তিত্বকে সম্মান করা নিশ্চিত করবেন এবং বিরোধীদের বিকশিত হতে দিয়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এটাই সময়।



