মিসিসিপি সিনেট লড়াইয়ে গণনা চলার মধ্যেই দুই পক্ষের আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি চিঠি, এগিয়ে কলোম

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনের লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলোম জয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকলেও এখনো ভোট গণনা চলছে। ঘনিষ্ঠ এই লড়াইয়ে রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথের চেয়ে ২ হাজারের সামান্য কম ভোটে এগিয়ে আছেন কলোম।
গভীর রিপাবলিকান-প্রভাবিত মিসিসিপি হারানো হবে রিপাবলিকানদের জন্য শেষ ধাক্কা—ডেমোক্র্যাটদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঝড়ে টেক্সাস ও সাউথ ক্যারোলাইনাও নীল হয়ে যাওয়ার পর।
এরই মধ্যে সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বাকি ব্যালট গণনার পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষই কড়া ভাষায় আইনি চিঠি পাঠাচ্ছে।
জাতীয় ভোটাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা মিসিসিপিতে নেমে পড়েছেন, স্থানীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগ দিয়ে। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটোরিয়াল ক্যাম্পেইন কমিটি (ডিএসসিসি) ও এলিয়াস ল গ্রুপের ডেমোক্র্যাট নির্বাচন আইনজীবীসহ ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান গোষ্ঠীগুলো গণনার শেষ ধাপ তদারকিতে অঙ্গরাজ্যের ৮২টি কাউন্টিতেই শত শত স্বেচ্ছাসেবী ও আইনজীবী মোতায়েন করেছে।
মিসিসিপিতে যেসব ভোটার ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র না থাকায় নির্বাচনের দিন হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) ব্যালটে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে স্থানীয় সার্কিট ক্লার্কের কার্যালয়ে গিয়ে গ্রহণযোগ্য ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে অথবা ধর্মীয় আপত্তির হলফনামায় সই করতে হবে।
তাঁদের হাতে সময় আছে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। একই দিন পর্যন্ত ডাকে পাঠানো ব্যালট পৌঁছে গণনা করা যাবে—সেটাই শেষ দিন।
মিসিসিপিতে স্বয়ংক্রিয় পুনর্গণনার কোনো আইন নেই। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রচার শিবির কোনো কাউন্টি বা কাউন্টি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালতের আদেশেই কেবল পুনর্গণনা হতে পারে।
অঙ্গরাজ্যজুড়ে ব্যালট চ্যালেঞ্জ করার কোনো ব্যবস্থাও মিসিসিপি আইনে নেই, ফলে প্রক্রিয়াটি চালাতে হবে কাউন্টি ধরে ধরে।
স্থানীয় নাগরিক সংগঠন ওয়ান ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক নসোম্বি ল্যামব্রাইট-হেইনস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মিসিসিপির মানুষ তাঁদের কাজ করেছেন। এখন নির্বাচন কর্মকর্তাদের তাঁদের কাজ করতে হবে। যেসব ভোটার নিয়ম মেনেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছেন, হলফনামা ব্যালটে যেতে বাধ্য হয়েছেন কিংবা নিজের কোনো দোষ ছাড়াই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁরা জবাব ও ব্যবস্থা পাওয়ার যোগ্য। প্রশাসনিক ব্যর্থতা যেন মানুষের কণ্ঠ মুছে না দেয়, আমরা তা হতে দেব না।’
বৃহস্পতিবার হাইড-স্মিথের পক্ষে ন্যাশনাল রিপাবলিকান সিনেটোরিয়াল কমিটি (এনআরএসসি) অঙ্গরাজ্যের কাউন্টি নির্বাচন কমিশনার ও সার্কিট ক্লার্কদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে দাবি জানায়, ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে দেওয়া সব হলফনামা ব্যালট আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে।
এনআরএসসির আঞ্চলিক প্রেস সচিব সামান্থা ক্যান্ট্রেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, প্রতিটি বৈধ ব্যালট যেন নির্ভুলভাবে গণনা করা হয় এবং সব মিসিসিপিবাসীর কণ্ঠ যেন শোনা যায়।’
কলোমের প্রচার ব্যবস্থাপক জেরার্ড হেন্ডারসন এক বিবৃতিতে এনআরএসসির চিঠিকে ‘মরিয়া কৌশল’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, প্রতিটি বৈধ ব্যালট গণনা হলে স্কট কলোমই হবেন মিসিসিপির পরবর্তী মার্কিন সিনেটর।’
বৃহস্পতিবার কলোমের আইন পরামর্শকও ৮২টি কাউন্টি, তাদের নির্বাচন কমিশনার ও সার্কিট ক্লার্কদের কাছে চিঠি পাঠান। চিঠিতে বলা হয়, ওই দাবিগুলোর ‘মিসিসিপি আইনে কোনো ভিত্তি নেই, এবং যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে সাধারণ নির্বাচনী পদ্ধতি থেকে সরে গেলে আপনারা মিসিসিপির ভোটারদের অধিকার ও মিসিসিপি নির্বাচন আইন লঙ্ঘন করবেন’।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘হাইড-স্মিথের চিঠি সত্ত্বেও আপনাদের আইনগত বাধ্যবাধকতা অনুযায়ীই কাজ করা উচিত: সাধারণ ও আইনসম্মত পদ্ধতিতেই এই নির্বাচন পরিচালনা করে যান। গৃহীত হলফনামা ব্যালট অন্য কাগজের ব্যালট থেকে আলাদা করবেন না। এবং এমন কিছু করবেন না যাতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যালটকে কোনো নির্দিষ্ট ভোটারের সঙ্গে মেলানো যায়—যা গোপন ব্যালটের অধিকারের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন হবে।’
শুক্রবার এনএএসিপিও অঙ্গরাজ্যের কাউন্টি নির্বাচন কমিশনগুলোর কাছে নিজস্ব চিঠি পাঠিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী ব্যালট গণনা ও প্রত্যয়ন প্রক্রিয়ায় অঙ্গরাজ্য আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানায়।
সংগঠনটির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী ডেরিক জনসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মিসিসিপির প্রতিটি ভোটারই তাঁর ভোট কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী গণনা পাওয়ার যোগ্য। এনএএসিপি মাঠে থেকে অঙ্গরাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে নির্বাচন-পরবর্তী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করছে। আমরা গভীরভাবে নজর রাখব, নির্বাচন কমিশনাররা যেন প্রতিটি আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন এবং প্রতিটি ব্যালট যেন ভয়ভীতি ও হুমকিমুক্তভাবে হিসাব করা হয়।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে জ্যাকসনে হাইন্ডস কাউন্টি আদালতের বাইরে সংবাদ সম্মেলনে মিসিসিপি রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান ও রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সাধারণ পরামর্শক মাইক হার্স্ট সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় ২০ হাজার ব্যালট এখনো গণনা বাকি থাকতে পারে।
অনেকে মনে করেন, এসব ব্যালট হাইড-স্মিথের ওপর কলোমের ব্যবধান আরও বাড়াবে। তবে হার্স্ট বলেন, ‘এর উল্লেখযোগ্য অংশ, আমাদের বিশ্বাস, রিপাবলিকান-প্রবণ জেলা, এলাকা ও কাউন্টিতে রয়েছে।’
হার্স্ট আরও বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আইন যদি অনুসরণ করা হয়ে থাকে এবং হয়ে থাকে, তাহলে মিসিসিপির মানুষ স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে তাঁদের মত জানাবেন এবং সিনেটর হাইড-স্মিথ এই মহান অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বে আরও একটি মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচিত হবেন।’



