যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ৫ হাজার ছাড়াল, আট রাজ্যে মৃত্যু ৮ জনের: সিডিসি

যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসির শুক্রবার হালনাগাদ করা তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ১৮২ জন। ৪৫টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জন আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে আসা আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী।
এ বছর হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে ৮ জনের। এর মধ্যে ছয়জন পেনসিলভানিয়ার, একজন নিউইয়র্কের এবং একজন উইসকনসিনের বাসিন্দা।
এই সপ্তাহেই তিনটি মৃত্যুর খবর রাজ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। বুধবার নিউইয়র্ক রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আপস্টেট নিউইয়র্কে বসবাসকারী একটি শিশু মারা গেছে, যা ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে রাজ্যটিতে প্রথম হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যু।
বুধবারই পেনসিলভানিয়ায় আরেকটি মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। মারা যাওয়া ব্যক্তি রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেফারসন কাউন্টির বাসিন্দা এবং তিনি টিকা নেননি।
বৃহস্পতিবার উইসকনসিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, সেখানে হাম নিয়ে একটি শিশু মারা গেছে। ১৯৯০ সালের পর এটিই রাজ্যটিতে প্রথম হামে মৃত্যু।
সিডিসি এখন পর্যন্ত আটটি মৃত্যুর মধ্যে চারটি নিশ্চিত করেছে এবং সংস্থাটি বলেছে, এই সংখ্যা ‘পরিবর্তন হতে পারে’।
ফেডারেল স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় ৯৬ শতাংশই টিকা নেননি অথবা তাঁদের টিকা নেওয়ার তথ্য জানা নেই। ২ শতাংশ আক্রান্ত এমএমআর টিকার মাত্র একটি ডোজ নিয়েছেন এবং ২ শতাংশ সুপারিশকৃত দুটি ডোজই নিয়েছেন।
বয়সভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে। আক্রান্তদের অন্তত ১১ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি ১০ জনে একজনের বেশি রয়েছে।
সিডিসি বর্তমানে এমএমআর টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেয়, প্রথমটি ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয়টি স্কুলে ভর্তির আগে ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে। সংস্থাটি বলছে, একটি ডোজ ৯৩ শতাংশ এবং দুটি ডোজ ৯৭ শতাংশ কার্যকর।
তবে সিডিসির তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকা নেওয়ার হার পিছিয়ে পড়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের ৯২ দশমিক ৪ শতাংশ এমএমআর টিকা পেয়েছে, যেখানে কোভিড মহামারির আগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এই হার ছিল ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ।




