ফিলিস্তিনের পক্ষে তহবিল সংগ্রহের সফর: যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি বড় অ্যারেনা ফিরিয়ে দিল র্যাপার ম্যাকলমোরকে

মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি বড় অ্যারেনা তাঁর ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ তহবিল সংগ্রহের সফর আয়োজন করতে রাজি হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি একে ‘ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি ও দমন’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ম্যাকলমোর বলেন, তিনি সফরটি যুক্তরাষ্ট্রে আনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নয়টি বড় অ্যারেনা অনুষ্ঠানটি করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো ডটকম অ্যারেনা এবং ব্রুকলিনের বার্কলেস সেন্টার।
তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্কের ত্রি-রাজ্য এলাকার ইউবিএস অ্যারেনা ও প্রুডেনশিয়াল সেন্টার, লস অ্যাঞ্জেলেসের ইনটুইট ডোম ও কিয়া ফোরাম, সান ফ্রান্সিসকোর চেজ সেন্টার এবং সিয়াটলের ক্লাইমেট প্লেজ অ্যারেনাও তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে।
ম্যাকলমোরের ভাষ্য, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এসব অ্যারেনায় বছরের শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানের তারিখ পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু এগুলো ফিলিস্তিনের পক্ষে তাঁর কল্যাণমূলক অনুষ্ঠান জানার পর তারিখগুলো হঠাৎ আর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। কথাবার্তা ছিল ভিন্ন ভিন্ন, কিন্তু ফল একই। এসব ভেন্যুতে অনুষ্ঠানগুলো হতে দেওয়া হবে না।’
গত মাসে ম্যাকলমোর ডাবলিন, লন্ডন ও প্যারিসে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সফরের অনুষ্ঠান করেন। সাতটি ইনস্টাগ্রাম স্লাইডে ছড়িয়ে থাকা পোস্টে তিনি বলেন, ইউরোপে তিনটি অ্যারেনার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল, ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি, ধর্ম ও জীবনধারা থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ৪০ জনের বেশি শিল্পী ও বক্তা ফিলিস্তিনি মুক্তির পক্ষে নাম ও প্ল্যাটফর্ম দিয়েছিলেন।
এই সফরের আগে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে এড শিরানের সফরে উদ্বোধনী পরিবেশনার সময় অধিকৃত পশ্চিম তীরের পক্ষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার পর শিরান ম্যাকলমোরকে তাঁর মার্কিন সফর থেকে বাদ দেন। শিরান বলেন, র্যাপার সহশিল্পী হিসেবে থাকলে মার্কিন ভেন্যুগুলো অনুষ্ঠান করতে অস্বীকৃতি জানাবে বলে তাঁকে বলা হয়েছিল।
শিরান বলেন, ‘আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। এই বিধ্বংসী সংঘাত নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত আছে। আমি প্রকাশ্যে কথা বলতে চাই না মানে এই নয় যে আমার মতামত নেই, কিংবা আমি পরোয়া করি না। আবার এর মানে এইও নয় যে আমি নিজের ব্যক্তিগত উপায়ে কোনো উদ্দেশ্যকে সমর্থন করি না।’ এর পরপরই চারজন উদ্বোধনী শিল্পী ও শিরানের লাইভ ব্যান্ড ম্যাকলমোরের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সফর ছেড়ে যায়।
ম্যাকলমোর বলেন, ক্ষমতাবানরা বিনোদনশিল্পীদের চুপ রাখতে ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি ও দমনকে প্রধান কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে। তিনি লেখেন, তিনি বরং এই শিল্পের সব সুযোগ হারাতে রাজি, তবু যারা ফিলিস্তিনি মানবজীবনের চেয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ককে বেশি মূল্য দেয়, তাদের রক্ষা করে আর একদিনও কাটাবেন না। তাঁর স্বপ্ন এমন এক বিশ্ব, যেখানে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলা বিতর্কিত নয়, বরং প্রত্যাশিত।
র্যাপার বলেন, এই সপ্তাহে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ধারার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেজাজ বদলাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, আবদুল এল-সায়েদ গাজায় গণহত্যা বন্ধ ও ইসরায়েলের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রতিশ্রুতিসহ সিনেট নির্বাচনে জিতেছেন, যদিও এআইপ্যাক তাঁকে হারাতে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার খরচ করেছিল।
পোস্টের শেষে ম্যাকলমোর প্রতিশ্রুতি দেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে আরও অনুষ্ঠান হবে। তিনি বলেন, তাঁরা অন্য শিল্পী ও সংগঠকদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন, হয়তো অনুষ্ঠানগুলো বাইরে খোলা জায়গায় নিয়ে যাবেন, এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য তহবিল সংগ্রহ ও সংহতির প্রতিশ্রুতি একই থাকবে। তাঁর শেষ কথা ছিল, ‘তারা অ্যারেনার মালিক হতে পারে। কিন্তু যারা অ্যারেনা ভরিয়ে তোলে, সেই মানুষের মালিক তারা নয়। কখনো হবেও না। ফ্রি প্যালেস্টাইন।’




