ফ্লাইটে ওঠার আগে বিমানবন্দরে আইসের হাতে আটক উইসকনসিনের স্টেট ট্রুপার, দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরত পাঠানোর মুখে ২১ বছর বয়সী

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একজন স্টেট ট্রুপারকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) আটক করেছে এবং তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরত পাঠানোর মুখে রয়েছেন বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন। ২১ বছর বয়সী ক্যারেল আরন ভ্যান ডার মেরওয়ে বৃহস্পতিবার একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ওঠার অপেক্ষায় থাকার সময় আটক হন।
ক্রিস্টোফার অ্যান্ড ডি লিওন আইন সংস্থার এক বিবৃতি অনুযায়ী, ভ্যান ডার মেরওয়ে আইস কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, তাঁর কাছে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং তাঁর আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন আছে। আইন সংস্থাটি বলেছে, ‘ভ্যান ডার মেরওয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা বলেছিলেন তাঁরা পরোয়া করেন না, তাঁকে হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে ডজ কাউন্টির অভিবাসন আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।’
আইসের একটি উপাত্তভান্ডার অনুযায়ী, ভ্যান ডার মেরওয়ে বর্তমানে উইসকনসিনের জুনো শহরের একটি আটক কেন্দ্রে রয়েছেন।
আইন সংস্থাটির মতে, ভ্যান ডার মেরওয়ে শিশু বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং সাত বছর ধরে আশ্রয়ের সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় আছেন। তাঁর আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর কাছে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে, যার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) বলেছে, আইস তাঁকে ম্যাডিসনের ডেন কাউন্টি রিজিওনাল বিমানবন্দরে একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে। ডিএইচএসের মতে, তিনি ২০১৯ সালের মার্চে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং তাঁর থাকার অনুমতি ছিল কেবল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ডিএইচএসের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের দেশের আইন অমান্য করে তিনি তাঁর প্রবেশের অনুমতির মেয়াদ অতিক্রম করে থেকে গেছেন। এই অবৈধ বিদেশি যথাযথ প্রক্রিয়া পাবেন এবং ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলাকালে আইসের হেফাজতেই থাকবেন।’
মুখপাত্র আরও বলেন, ডিএইচএস বাইডেন যুগের সেই নীতি উল্টে দিয়েছে, যা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকা বিদেশিরা দেশজুড়ে বিমানে ঘুরে বেড়াতে পারতেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে ডিএইচএস আর এটি সহ্য করবে না এবং প্রশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে যে অবৈধভাবে থাকা বিদেশিরা আর বিমানে চড়তে পারবেন না, যদি না তা নিজে দেশ ছেড়ে যাওয়ার ফ্লাইট হয়।
অ্যাটর্নি মার্ক ক্রিস্টোফার বলেছেন, তিনি তাঁর মক্কেলের জামিনে মুক্তি চাইবেন। এক বিবৃতিতে ক্রিস্টোফার বলেন, ‘এটি অমানবিক ও জঘন্য। তাঁর আশ্রয়ের মামলা অমীমাংসিত থাকা অবস্থায় একজন উইসকনসিন স্টেট ট্রুপারকে কারাগারের পেছনে রাখা আমাদের সম্প্রদায়গুলোকে নিরাপদ করে না। উইসকনসিনের কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের উচিত তাঁর মুক্তি ও জবাব দাবি করা।’




