ট্রাম্পকে পদত্যাগ করতে বলায় কিমেলকে ‘চিনাবাদাম-আকারের মস্তিষ্ক’ বলল হোয়াইট হাউস

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এবিসির গভীর রাতের উপস্থাপক জিমি কিমেল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পদত্যাগ করতে বলায় শুক্রবার তীব্র ভাষায় জবাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেছেন, কিমেলের মস্তিষ্ক ‘পচে গেছে’।
ইঙ্গল বলেন, কিমেলের ‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট সিনড্রোম’ এতটাই বেড়ে গেছে যে তা তাঁর ‘চিনাবাদাম-আকারের মস্তিষ্ক’ সম্পূর্ণ পচিয়ে দিয়েছে। মুখপাত্রের ভাষ্য, কিমেলের সঙ্গে হাসার চেয়ে তাঁকে নিয়ে হাসলেই তিনি বেশি বিনোদন দেন, আর তাঁর আসল প্রতিভা হলো পড়তে থাকা রেটিং। এই বিবৃতি লিখতে গড়পড়তা একটি কিমেলের কৌতুকের চেয়ে বেশি মস্তিষ্কের কোষ লেগেছে বলেও ইঙ্গল মন্তব্য করেন।
বুধবার রাতের মনোলগে কিমেল ট্রাম্পকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যকে তিনি ‘নীল ঢেউ’ বলে বর্ণনা করেন এবং ব্যালটে ট্রাম্পের নাম থাকলে রিপাবলিকানরা আরও ভালো করত—প্রেসিডেন্টের এমন দাবি তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
কিমেল বলেন, ট্রাম্প ব্যালটে ছিলেন, কারণ তিনি সবকিছুতেই রয়েছেন এবং দেশকে এমনভাবে বিভক্ত করেছেন, যেমন আগে কেউ করেনি। তাঁর ভাষ্য, ট্রাম্প কেবল একবারই সবাইকে এক করেছেন—যখন সবাই তাঁকে সরাতে একজোট হয়েছিল।
একই অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের একটি বৈঠকে ট্রাম্পকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে এমন একটি ছবি দেখিয়ে কিমেল তাঁকে ‘ন্যাপি গিলমোর’ বলে কটাক্ষ করেন এবং আবার পদত্যাগ করতে বলেন। তিনি বলেন, কেউ ট্রাম্পকে চায় না, এমনকি ট্রাম্প নিজেও আর প্রেসিডেন্ট হতে চান না। ক্রিপ্টো থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে একটি দ্বীপ কিনে নেওয়ার পরামর্শও দেন কিমেল।
এই বাকযুদ্ধ এ সপ্তাহে এটাই প্রথম নয়। নির্বাচনের পর কিমেলের কভারেজের জবাবে সপ্তাহের শুরুতে ইঙ্গল ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে কিমেলকে ‘প্রতিভাহীন হেরো’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যিনি পড়তে থাকা রেটিং দিয়ে নিজেকে হাস্যকর করে তুলেছেন। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিমেলের মধ্যে আসল প্রতিভা এতটাই নেই যে সাধারণ বুদ্ধির কেউ তাঁকে নিয়ে হাসা ছাড়া তাঁর অনুষ্ঠান দেখবে না।
কিমেল নিজের অনুষ্ঠানেই সেই আগের বিবৃতির জবাব দেন। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যই অনেকটা সেটাই, এবং আপাতদৃষ্টিতে তিনি আবার নিজেকে হাস্যকর করেছেন। ইঙ্গলকে তিনি ‘ড্যানি ডিঙ্গল’ বলে সম্বোধন করে বলেন, তাঁকে হেরো বলার জন্য দিনটি খারাপ বেছে নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যম সমালোচক ও ‘হলিউড ইন টোটো’র সম্পাদক ক্রিশ্চিয়ান টোটো বুধবার ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, কিমেল অনেক আগেই কৌতুক ছেড়ে সক্রিয়তায় ঝুঁকেছেন এবং ডেমোক্র্যাটিক দলের বক্তব্যই এগিয়ে নেন। এই সপ্তাহে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া নতুন কিছু নয় বলেও টোটো মন্তব্য করেন।
টোটোর ভাষ্য, নতুন বিষয় হলো এবিসির সঙ্গে কিমেলের সম্পর্কের টানাপোড়েন। নেটওয়ার্কটি অনুষ্ঠানটি চালু রাখতে বড় ধরনের বাজেট কর্তন চায় বলে তিনি জানান। দুই পক্ষ সম্ভবত একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, কারণ এবিসির কর্তাদের কাছে অনুষ্ঠানটির প্রচারমূলক উদ্দেশ্য আর্থিক বিবেচনার চেয়ে বড়—তবে এই অবস্থা কত দিন চলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন টোটো।


