ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে হৃদয়ের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি
সেপ্টেম্বরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সাড়ে তিনশ রান করেছিলেন তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সেই ইনিংসের পর তাঁকে আন্তর্জাতিক টেস্টেও নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
জাতীয় দলে নিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমে যখন সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিল দেখছেন, তখন একাই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন হৃদয়।
সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে এই সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ব্যাট হাতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছিল বাংলাদেশ। সফরকারী ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংসে করা ৩৫৬ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল স্বাগতিকরা।
ফলে প্রথম ইনিংসেই তখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে দিনের শেষ ভাগে তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের মধ্যকার অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের দায়িত্বশীল জুটি দলকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল।
এর আগে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে শুক্রবার দিনের খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়েই স্বাগতিকদের প্রথম সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ।
আগের দিনের অপরাজিত সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গুকে (১৩৩) বোল্ড করার পরের বলেই সাজঘরে ফেরান রস্টন চেইসকে।
এরপর ব্যক্তিগত ২৩ রানে জশুয়া বিশপকে উইকেটকিপার লিটন দাসের স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান।
এর মধ্য দিয়ে সাবেক পেসার শাহাদাত হোসেনের চারবারের রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নেওয়ার ইতিহাস গড়েন তিনি।
পাশাপাশি নাথান লিয়নের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ভিন্ন পাঁচটি দেশের বিপক্ষে প্রথম পাঁচটি ফাইফার এবং টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে স্টাম্পিংয়ে উইকেট শিকারের নজির স্থাপন করেন তিনি।
লাঞ্চের পর শামার জোসেফকে বোল্ড করে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৬ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। শেষ উইকেটে ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলস ৩৩ রান যোগ করার পর সিলসকে এলবিডব্লিউ করে মিরাজ ক্যারিবীয়দের ইনিংস গুটিয়ে দেন ৩৫৬ রানে।
হাসান একাই ৯০ রানে নেন ৬ উইকেট; তাসকিন ও মিরাজ পান দুটি করে উইকেট, তবে উইকেটশূন্য থাকেন তাইজুল ও নাঈম।
জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। নিয়মিত ওপেনার সাদমান ইসলাম চোটের কারণে মাঠে নামতে না পারায় ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নামেন স্পিনার নাঈম হাসান, তবে সুবিধা করতে না পেরে মাত্র ৫ রানেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জেইডেন সিলসের বলে।
অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি; জাস্টিন গ্রেভসের বলে ডাউন দ্য উইকেটে ড্রাইভ করতে গিয়ে কেভিন উইকহ্যামের দারুণ ক্যাচে ১৬ রানে বিদায় নেন তিনি।
দলীয় মাত্র ২২ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শামার জোসেফের ১৪১ কিলোমিটার গতির ইনসুইঙ্গারে বোল্ড হয়ে ফেরেন ১৮ রানে। ফলে মাত্র ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে গভীর ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
চতুর্থ উইকেটে নেমে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গী করে লড়াই শুরু করেন তাওহীদ হৃদয়। ইনিংসের একপর্যায়ে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে ক্যাচ তুলেও বেঁচে যান হৃদয় এবং ক্যাচটি তালুবন্দী করতে গিয়ে আঙুলে চোট পান এই ক্যারিবীয় স্পিনার।
অন্যপ্রান্তে মুশফিকও আম্পায়ার্স কলের কল্যাণে এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন থেকে রক্ষা পান। দিন শেষে ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ; যেখানে হৃদয় ২৯ এবং মুশফিক ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
সেই লড়াইয়ের ধারাবাহিকতাতেই তৃতীয় টেস্টে নেমে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন হৃদয়।

