ওমরের কর নথি পুনঃপরীক্ষার দাবিতে ২০১৯ সালে আইআরএসকে চিঠি দিয়েছিলেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা

মিনেসোটার রিপাবলিকান রাজ্য আইনপ্রণেতাদের একটি দল ২০১৯ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ আইআরএসকে চিঠি লিখে প্রতিনিধি ইলহান ওমরের কর নথি 'বিস্তারিত পুনঃপরীক্ষা' করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ফক্স নিউজ ডিজিটালের হাতে আসা ওই চিঠির ভিত্তিতে জানা গেছে, মিনেসোটার প্রচার অর্থ বোর্ডের এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছিল যে ওমর ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে যৌথ কর বিবরণী দাখিল করেছিলেন, যাঁর সঙ্গে তিনি আইনত বিবাহিত ছিলেন না।
মিনেসোটা ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্স অ্যান্ড পাবলিক ডিসক্লোজার বোর্ড ২০১৯ সালের ৬ জুন ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ওমর ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আহমেদ হিরসির সঙ্গে যৌথ কর বিবরণী দাখিল করেছিলেন, যদিও তখন তিনি আইনত বিবাহিত ছিলেন আরেক ব্যক্তি আহমেদ নূর সাঈদ এলমির সঙ্গে।
যৌথ কর বিবরণীর বিষয়টি উঠে আসে বোর্ডের তদন্তের সময়, যখন বোর্ড ওমরের প্রচার কমিটির এক হাজার ৫০০ ডলারের ব্যয় খতিয়ে দেখছিল। বোর্ড যাচাই করছিল, ওই ব্যয় বৈধ প্রচার-সংক্রান্ত ব্যয় ছিল কি না, নাকি প্রচারের অর্থ ওমরের ব্যক্তিগত সুবিধার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। ওই অর্থ ছিল কেজেলবার্গ ল অফিসকে দেওয়া মোট দুই হাজার ২৫০ ডলারের প্রতিদানের একটি অংশ, যা আইনি ও অন্যান্য সেবার জন্য দেওয়া হয়েছিল।
বোর্ডের প্রশ্নের জবাবে ওমরের প্রচার কমিটি জানায়, কেজেলবার্গ ল অফিস অ্যাকাউন্টিং প্রতিষ্ঠান ফ্রেডরিক অ্যান্ড রোজেনকে নিয়োগ করেছিল, যাতে ওমরের বৈবাহিক ইতিহাস ঘিরে অভিযোগের জবাব দিতে আর্থিক নথি সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা যায়। কমিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফ্রেডরিক অ্যান্ড রোজেন ওমর ও আহমেদ হিরসির স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্র তৈরি করেছিল, যাতে আইআরএসের কাছ থেকে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের দাখিল করা যৌথ ফেডারেল আয়কর বিবরণীর কপি পাওয়া যায়।
বোর্ড সিদ্ধান্ত দেয়, কমিটি প্রমাণ করতে পারেনি যে এক হাজার ৫০০ ডলারের ব্যয়টি প্রচারের স্বার্থে হয়েছিল। তাই বোর্ড ওমরকে ওই অর্থ কমিটিকে ফেরত দিতে বলে।
নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমর ২০০২ সালে মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হিরসিকে বিয়ে করেন এবং ২০০৮ সালে সেই রীতিতেই তাঁদের সম্পর্ক শেষ হয়। এরপর ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আইনত আহমেদ নূর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করেন। ফক্স নিউজ ডিজিটালের হাতে আসা বিবাহবিচ্ছেদের নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ওমর আইনত এলমিকে তালাক দেন।
বোর্ডের কার্যক্রমের সময় ওমর ও তাঁর প্রচার কমিটির আইনজীবী কার্লা কেজেলবার্গ বলেন, ফ্রেডরিক অ্যান্ড রোজেনের সেবা ওমরের কিছু ব্যক্তিগত উপকারে এসেছিল, কারণ প্রার্থী হিসেবে তাঁর অবস্থা যাই হোক, তাঁর কর বিবরণীতে সংশোধনের মতো সমস্যা ছিল।
তৎকালীন আইআরএস কমিশনার চার্লস রেটিগকে লেখা ২০১৯ সালের ৬ আগস্টের চিঠিতে রাজ্য আইনপ্রণেতারা মিনেসোটা ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্স বোর্ডের প্রতিবেদনের আলোকে পর্যালোচনার আবেদন জানান। চিঠিতে বলা হয়, 'সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে আমি মনে করি, প্রতিনিধি ওমরের কর নথি তদন্তের সম্ভাব্য কারণ রয়েছে।' চিঠিতে স্বাক্ষর করেন মিনেসোটার রাজ্য প্রতিনিধি স্টিভ ড্রাজকোভস্কি, লিন্ডা রানবেক, গ্লেন গ্রুয়েনহেগেন, শেন মেকেল্যান্ড, জন পোস্টন, এরিক লুসেরো, ডুয়ান কোয়াম, টিম মিলার, ক্যাল বাহর ও জেরেমি মুনসন।
ড্রাজকোভস্কি ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, আইআরএস ওই অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি। আইআরএসও মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। আইনপ্রণেতাদের অনুরোধের পর আইআরএস আসলেই পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না, তা ফক্স নিউজ ডিজিটাল নিশ্চিত করতে পারেনি। ফেডারেল কর গোপনীয়তার নিয়ম সাধারণত কোনো ব্যক্তিগত করদাতা সম্পর্কে সংস্থা কী প্রকাশ করতে পারে, তা সীমিত করে।
একই সঙ্গে ড্রাজকোভস্কির নেতৃত্বে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ২০১৯ সালের আগস্টে তৎকালীন মিনেসোটা রাজস্ব বিভাগের কমিশনার সিনথিয়া বাউয়ারলিকেও পৃথক চিঠি লিখে ওমরের যৌথ কর নথি পর্যালোচনার অনুরোধ জানান। ড্রাজকোভস্কি বলেন, বাউয়ারলি কিংবা মিনেসোটা রাজস্ব বিভাগ কেউই অনুরোধের জবাব দেয়নি। বিভাগটিও মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
চিঠিগুলো আসে ড্রাজকোভস্কি প্রতিনিধি অ্যাঞ্জি ক্রেইগকে তাঁর উদ্বেগ হাউস এথিকস কমিটিতে পাঠানোর অনুরোধ জানানোর দুই মাস পর। ক্রেইগ চিঠিতে জানিয়েছিলেন, ড্রাজকোভস্কি নিজেই অফিস অব কংগ্রেশনাল এথিকসে (যা ২০২১ সালে অফিস অব কংগ্রেশনাল কন্ডাক্ট নামে নামকরণ করা হয়) তথ্য জমা দিতে পারেন। এদিকে অক্টোবরের শেষ দিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েন মুলিন ফক্স নিউজে বলেন, ওমরের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিবাসন ও বিবাহ জালিয়াতির ফেডারেল তদন্ত বিচার বিভাগে (ডিওজে) পাঠানো হয়েছে—এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, একাধিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে একটি 'বড় মামলা'। তবে ওই তদন্তে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের যৌথ কর নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।



