আদালতের মুক্তির আদেশের পরও পুনরায় গ্রেপ্তার: কলোরাডোতে আইসের বিরুদ্ধে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে আদালতের মুক্তির আদেশের পরও অভিবাসীদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন একজন ফেডারেল বিচারক। ডেনভারে আইসের ফিল্ড অফিসের পরিচালক নাথান রাসপারকে সোমবার আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারক শার্লট সুইনির গত ৫ নভেম্বরের আদেশের পর এই তদন্ত শুরু হয়। এর আগে তিনি সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ২৭ অক্টোবর থেকে কলোরাডোতে আদালতের মুক্তির আদেশের ১২ ঘণ্টার মধ্যে আইস যাঁদের আবার আটক করেছে, তাঁদের প্রত্যেকের পরিচয় জানাতে হবে।
ফেডারেল কর্মকর্তারা পরে জানান, মুক্তির পর পুনরায় গ্রেপ্তার হয়েছেন এমন ১৪ জন আবেদনকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কখন তাঁদের ছাড়া হয় এবং কখন আবার গ্রেপ্তার করা হয়, সেই সুনির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
বিচারক সুইনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, ওই ১৪ জনের মুক্তি ও পুনরায় গ্রেপ্তারের সঠিক তারিখ ও সময় জানাতে হবে এবং আদালতের মুক্তির আদেশের পরপরই আটক করা হয়েছে এমন আরও কেউ থাকলে তাঁদেরও শনাক্ত করতে হবে।
গত ৪ নভেম্বরের শুনানিতে বিচারক প্রশ্ন তোলেন, আইস কি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আবার আটকে নিয়ে আদালতের আদেশ এড়িয়ে যাচ্ছে? ওই শুনানিতেই তিনি রাসপারকে পরের শুনানিতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।
তদন্তের একটি অংশ রামন কুইন্তেরো আলভারেজের মামলা। সরকারি আদালতের নথি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর অভিবাসন আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই আইস তাঁকে আবার আটকে নেয়।
গত ৩ নভেম্বর আদালতে দেওয়া নথিতে ফেডারেল সরকারের আইনজীবীরা জানান, আলভারেজকে আটকে রাখার বৈধতা নিয়ে তাঁরা কোনো আইনি যুক্তি জমা দেবেন না।
৪ নভেম্বরের শুনানিতে সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি অ্যান্ড্রু সোলার ও কেভিন ট্রাসকস হাজির ছিলেন; আইসের সহকারী ফিল্ড অফিস পরিচালক নিকোল ব্ল্যাক শপথ নিয়ে আলভারেজের পুনরায় গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন।
ওই শুনানিতে বিচারক সুইনি আলভারেজকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে তাঁকে আবার আটক করতে নিষেধ করেন—যদি না সরকার বন্ড শুনানিতে স্পষ্ট ও জোরালো প্রমাণে দেখাতে পারে যে তিনি পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি।
সরকারকে বিচারকের চাওয়া অতিরিক্ত তথ্য সোমবার সকাল আটটার মধ্যে জমা দিতে হবে; ওই দিন সকালের শেষ দিকে রাসপারের আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারক এখনো আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেবেন কি না, তা জানাননি।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এক বিবৃতিতে বলেছে, বিচারকের মুক্তির আদেশ কোনো ব্যক্তিকে চিরকালের জন্য অভিবাসন প্রয়োগ থেকে রক্ষা করে না। বিবৃতিতে বলা হয়, আইস আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে পারে; তা না পারার কথা বলা 'নাশকতা' ছাড়া আর কিছু নয়।
ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেছেন, বাইডেনের নিয়োগ দেওয়া বিচারকদের সঙ্গে কাজ করা 'প্রায় অসম্ভব'। কলোরাডোতে বিচারক নিনা ওয়াং ও এস. কাতো ক্রুজসহ আরও বাইডেন-নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের সামনেও অভিবাসন আটক নিয়ে একই ধরনের মামলা চলছে।



