ট্রাম্পের হারের জন্য ফ্ল্যাভিও বলসোনারোকে দায়ী করলেন লুলা: ‘ও লোকটাই অলক্ষুণে’

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল। আর এই পরাজয়ের জন্য নিজ দেশে নির্বাচনে পরাজিত প্রতিপক্ষ ফ্ল্যাভিও বলসোনারোকে দায়ী করে বিদ্রূপ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
গত বৃহস্পতিবার এক ইউটিউব লাইভস্ট্রিমে লুলা মন্তব্য করেন, ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে আগমনই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ‘মন্দ ভাগ্য’ বা অপয়া প্রমাণিত হয়েছে।
ব্রাজিলীয় আইনপ্রণেতা আন্দ্রে জ্যানোনেসের সঙ্গে আয়োজিত ওই লাইভস্ট্রিমে লুলা কৌতুকচ্ছলে বলেন, ‘ও লোকটাই অলক্ষুণে। ও ট্রাম্পের লোকসান করাল। ও যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরই ট্রাম্প হেরে গেলেন।’
লুলার এই খোঁচাপূর্ণ বক্তব্যটি এসেছে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মার্কিন অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর। নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট—উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা তাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য এই ফলাফল এক বিশাল রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২৫ অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হন ফ্ল্যাভিও বলসোনারো। এর মাধ্যমে লুলা চতুর্থ মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন।
নির্বাচনে হারার পরপরই সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর ছেলে এবং দেশটির বর্তমান সিনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ও দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস দেশটির রাজনৈতিক বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য উৎস ও তহবিল নিয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছে।
এর মধ্যে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার তহবিল থেকে প্রায় ১০ লাখ ডলার অনুদান পাওয়ার একটি বিষয় সামনে এসেছে, যা নিয়ে ব্রাজিল সরকার তদন্ত করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ ধরনের কোনো তহবিল সরাসরি ফ্ল্যাভিও বলসোনারোকে দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি।
দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং কর ফাঁকির মারাত্মক অভিযোগে ফ্ল্যাভিওর বিরুদ্ধে ব্রাজিলে একাধিক আইনি তদন্ত চলছে। লুলার অভিযোগ, বিচার এড়াতে এবং সুরক্ষা পেতেই ফ্ল্যাভিও যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
ফ্ল্যাভিওকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লুলা বলেন, ‘সে সেখানে সুরক্ষা খুঁজতে গেছে। দেখা যাক সে কেমন সুরক্ষা পায়! তাকে ব্রাজিলে ফিরে এসে আদালতের মুখোমুখি হতেই হবে।’
এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হওয়ার পর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার করেননি। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই তিনি নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আসছেন।

