স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারিতে পুরো দলই জড়িত ছিল, দাবি খাজার; ‘বই বিক্রির কৌশল’ বললেন লেহম্যান
২০১৮ সালের স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারি নিয়ে নতুন করে বোমা ফাটিয়েছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান তারকা উসমান খাজা। তাঁর দাবি, কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা পুরো অস্ট্রেলিয়া দলই আগে থেকে জানত।
খাজার এই দাবি অস্বীকার করেছেন দলটির তৎকালীন কোচ ড্যারেন লেহম্যান। একই সঙ্গে একে খাজার আত্মজীবনী ‘সবর’-এর বই বিক্রির কৌশল বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের পর নিজের অতীত অভিজ্ঞতা একে একে প্রকাশ করছেন খাজা। তাঁর আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘সবর’-এ আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূল বইয়ের কিছু অংশ প্রকাশিত হতেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন টেস্টে শিরিষ কাগজ (স্যান্ডপেপার) ঘষে বল টেম্পারিংয়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিন অজি ক্রিকেটার। কিন্তু ওই ঘটনা পুরো দলই জানত বলে দাবি করেছেন খাজা।
খাজার দাবি, কেপটাউন টেস্টের আগে গেবেরখায় দ্বিতীয় টেস্টেও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা স্যান্ডপেপার ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু পুরো সত্যটা কেউ সামনে আনেনি।
সংবাদমাধ্যম ‘নাইন’কে খাজা বলেন, বিষয়টি শুধু ব্যাটার, বোলার বা স্টাফদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না — দলের সবাই এতে জড়িত ছিল। তিনি বলেন, এটি ছিল সবার সম্মিলিত বিষয়।
তিনি আরও বলেন, তিনি এমন কেউ হতে চাননি যে সামনে এসে সত্যটা তুলে ধরবে। কিন্তু তাঁর ধারণা ছিল, আট বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর এতদিনে সত্যটা সবার সামনে চলে আসবে।
২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ চলাকালে বল বিকৃতির লক্ষ্যে শিরিষ কাগজ ব্যবহার করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ক্যামেরন ব্যানক্রফট। ওই ঘটনায় তাঁকে ৯ মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
বিষয়টি জেনেও না থামানোয় তৎকালীন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত থাকায় সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ১২ মাস নিষিদ্ধ হন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার তখনকার প্রধান কোচ ড্যারেন লেহম্যানও এই ঘটনার পর পদত্যাগ করেন।
খাজার নতুন দাবির পর লেহম্যান অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম এবিসি-কে জানান, তাঁর মনে হয় না সবাই বিষয়টি জানত। তিনি বলেন, বল টেম্পারিং ঘটতে পারে — এটা জানা সম্ভব, কারণ ১৫০ বছর ধরে সেটি ঘটে আসছে। কিন্তু কীভাবে করা হলো, সেটাই আসল বিষয়।
লেহম্যান বলেন, তিনি কেবল নিজের জানা বিষয় নিয়েই কথা বলতে পারেন। তাঁর মতে, বল টেম্পারিং একসময় ক্রিকেট খেলার একটি বড় অংশ ছিল, যদিও তা সঠিক ছিল না এবং এর জন্য তাঁদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) তদন্তে সব প্রমাণ ছিল বলে মনে করেন লেহম্যান। তিনি বলেন, সেই সময়ে পুরো প্রক্রিয়াটি পার করা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলার সময়টি খুবই কঠিন ছিল। তিনি দীর্ঘ সময় মানসিকভাবে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় ছিলেন, এমনকি টানা চার মাস বাড়ির বাইরেই বের হননি।
লেহম্যানের মতে, আট বছর পর ওই ঘটনাকে বই বিক্রির চেষ্টায় ব্যবহার করা ভিন্ন বিষয়। এটি উসমানের (খাজার) নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং সে এ পথেই এগোতে চায়।
যাঁরা এর সঙ্গে জড়িত, সেই পরিবারগুলো ও অন্যান্য মানুষের জন্য তাঁর খারাপ লাগছে বলে জানান লেহম্যান। কারণ এটি তাঁদের আবারও সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আট বছর পার হয়ে গেছে, মানুষ এক পর্যায়ে জীবন নিয়ে এগিয়ে যায়, আর তিনিও নিজের জীবন নিয়ে এগিয়ে গেছেন।
অস্ট্রেলিয়া দলের অভ্যন্তরে স্যান্ডপেপার নিয়ে আলোচনা হওয়ার বিষয়ে লেহম্যান বলেন, তাঁর তা মনে নেই। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে দুটি চেঞ্জ রুম ছিল এবং সব জায়গাতেই নানা আলোচনা-পর্যালোচনা চলছিল। তিনি বলেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তাঁর অনেক বৈঠক হয়েছে। এমনটা হয়েও থাকতে পারে, তিনি জানেন না। এ বিষয়ে তিনি হ্যাঁ বা না কিছুই বলছেন না। পুরো বিষয়টি নিয়ে সবার ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে।

