দেড়শ ছুঁয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে টেনে তুললেন হৃদয়, তাইজুলের সঙ্গে জুটি ৯০ রানের

সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাওহীদ হৃদয়। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম হাফসেঞ্চুরি, সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার পর এবার দেড়শতে পৌঁছে গেছেন তিনি। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে তাঁর এই বীরোচিত ইনিংস বাংলাদেশকে লড়াইয়ের আশা দেখাচ্ছে। উপযুক্ত সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন তাইজুল ইসলাম। এখন পর্যন্ত স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৭৪ রান।
১৮৪ রানে বাংলাদেশ যখন সপ্তম উইকেট হারায়, তখনও ক্যারিবীয়রা ১৭২ রানে এগিয়ে ছিল। সেখান থেকে তাইজুলকে নিয়ে ব্যবধানটা ৮২ রানে নামিয়ে এনেছেন হৃদয়। তাইজুল-হৃদয় জুটি এখন পর্যন্ত ৯০ রান করেছে। আর এটাই বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসের সংগ্রহটা বাড়িয়ে নেওয়ার আশা দেখাচ্ছে।
১৭১তম বলে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরিতে পৌঁছান হৃদয়। ওই সময় তিনি ১১টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। এরপর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে ডানহাতি এই ব্যাটারের ব্যাট। ২৩৫ বলে দেড়শতে পৌঁছানোর পথে তিনি খেললেন ১৪ চার ও ৫ ছক্কা। অর্থাৎ, পরের ৫০ রানের মধ্যে ৩৬ রানই এসেছে বাউন্ডারিতে।
তাইজুল ইসলাম ১৫ রান করে সঙ্গ দিলেও বেশিরভাগ বলই মোকাবিলা করছেন হৃদয়। এক প্রান্ত আগলে রেখে তিনি যেমন রান তুলছেন, তেমনি জুটিটাকেও টিকিয়ে রাখছেন।
এর আগে আজ শনিবার ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুতে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিলেও মুশফিকুর রহিমের অহেতুক এক শটে তা ভেস্তে যায়। জোমেল ওয়ারিকানের ভাসানো বলে রাউন্ড দ্য উইকেটে শট খেলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দেন মুশফিক। ফিরলেন ৩৪ রানে। ফলে হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর জুটি থামে ৭৩ রানে।
নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে নেমেই লিটন দাস আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। দুটি বাউন্ডারি পেলেও তাঁর আক্রমণাত্মক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে ফাঁদ তৈরি করেন ওয়ারিকান। ফুল লেংথে এবং অফ স্টাম্প বরাবর আসা বলে লিটন ড্রাইভ করতে গিয়ে মুশফিকের মতোই কাভারে দাঁড়ানো ব্রেন্ডন কিংকে ক্যাচ দেন। ক্যারিবীয় তারকা সেটি তালুবন্দী করেন একদম আয়েশি ভঙ্গিতে।
হৃদয়-মেহেদী হাসান মিরাজের জুটিও আশা দেখিয়ে ভেঙেছে ৪১ রানে। বেশ সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকা মিরাজ রোস্টন চেজের বলে প্যাডেল শট খেলার মনস্থির করেছিলেন আগে থেকেই। ফলে ঠিকঠাক ব্যাটে না হওয়ায় ক্যাচ উঠে যায়, প্রথম স্লিপ থেকে দৌড়ে গিয়ে জাস্টিন গ্রিভস ঝাঁপিয়ে সেটি লুফে নেন। ১৬ রানে থামলেন মিরাজ।
৬ রানের ব্যবধানে আউট হয়েছেন হাসান মাহমুদও। ওয়ারিকানের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বল তাঁর ব্যাটের আলতো স্পর্শ নিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। ফলে ১৮৪ রানে বাংলাদেশ সপ্তম উইকেট হারায়।
সেখান থেকে হৃদয় ও তাইজুলের প্রতিরোধ বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারলে প্রথম ইনিংসের ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এই ইনিংস হৃদয়ের ক্যারিয়ারের জন্যও একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। তৃতীয় টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরি, তারপর দেড়শ—দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে এমন ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে ভবিষ্যতের জন্য আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।



