হাসানের রেকর্ড ছয় উইকেট, তবু ৮৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ
সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংস ৩৫৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা।
শুক্রবার ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়েই স্বাগতিকদের প্রথম সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ; আগের দিনের অপরাজিত সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গুকে (১৩৩) বোল্ড করেন তিনি, পরের বলেই সাজঘরে ফেরান রস্টন চেইসকে।
জাঙ্গু ২১২ বলে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায় ১৩৩ রান করেন। আগের দিন ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হলে জশুয়া বিশপের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার আউট দেন; তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বিশপ, ফলে হ্যাটট্রিকের উল্লাস অপূর্ণ থেকে যায়।
পরে নিজের ফিরতি বলে ক্যাচ এলেও দুই হাত ফসকে জীবন পান বিশপ; পরের এক ওভারে হাসানকে টানা দুটি চারও মারেন তিনি। তবে ৯০তম ওভারের প্রথম বলেই সেই বিশপকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান; ব্যক্তিগত ২৩ রানে লিটন দাসের স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন বিশপ।
লাঞ্চের পর শামার জোসেফকে বোল্ড করে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৬ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। শেষ উইকেটে ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলস ৩৩ রান যোগ করার পর সিলসকে এলবিডব্লিউ করে মিরাজ ক্যারিবীয়দের ইনিংস গুটিয়ে দেন ৩৫৬ রানে।
হাসান একাই ৯০ রানে নেন ৬ উইকেট; তাসকিন ও মিরাজ পান দুটি করে উইকেট, তবে উইকেটশূন্য থাকেন তাইজুল ও নাঈম।
ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফাইফার পাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পেস বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট শিকারের নতুন রেকর্ড গড়েছেন হাসান মাহমুদ। এতদিন চারটি করে পাঁচ উইকেট নিয়ে সাবেক পেসার শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি; এবার শাহাদাতকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠলেন।
বিশ্বের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে নিজের প্রথম পাঁচটি ফাইফার পেলেন ভিন্ন পাঁচটি দেশের বিপক্ষে; এর আগে টেস্ট ক্রিকেটে এমন কীর্তি ছিল কেবল অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্পিনার নাথান লিয়নের। উইন্ডিজ ও আফগানিস্তান ছাড়াও টেস্টে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট শিকারের গৌরব রয়েছে হাসানের। একই সঙ্গে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে স্টাম্পিংয়ে উইকেট শিকারের নজির স্থাপন করেন তিনি।
দেশের মাটিতে এটি হাসানের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকার। এর আগে গত অক্টোবরেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আবারও এই সাফল্য পেলেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। নিয়মিত ওপেনার সাদমান ইসলাম চোটের কারণে মাঠে নামতে না পারায় ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নামেন স্পিনার নাঈম হাসান; মাত্র ৫ রানেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জেইডেন সিলসের বলে। অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি; জাস্টিন গ্রেভসের বলে ডাউন দ্য উইকেটে ড্রাইভ করতে গিয়ে কেভিন উইকহ্যামের দারুণ ক্যাচে ১৬ রানে বিদায় নেন।
দলীয় মাত্র ২২ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শামার জোসেফের ১৪১ কিলোমিটার গতির ইনসুইঙ্গারে বোল্ড হয়ে ফেরেন ১৮ রানে। ফলে মাত্র ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে গভীর ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
চতুর্থ উইকেটে নেমে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গী করে লড়াই শুরু করেন তাওহীদ হৃদয়। ইনিংসের একপর্যায়ে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে ক্যাচ তুলেও বেঁচে যান হৃদয়; ক্যাচটি তালুবন্দী করতে গিয়ে আঙুলে চোট পান এই ক্যারিবীয় স্পিনার। অন্যপ্রান্তে মুশফিকও আম্পায়ার্স কলের কল্যাণে এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন থেকে রক্ষা পান।
দিন শেষে ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ; হৃদয় ২৯ এবং মুশফিক ১৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। প্রথম ইনিংসেই এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ; শনিবার তৃতীয় দিনে এই জুটির ওপর ভর করেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ দল।


