গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ল, অবসর ভাতাও বাড়ছে: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন এবং অবসরকালীন আর্থিক সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে সরকারপ্রধান এ ঘোষণা দেন।
নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে মাসিক বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেতনের পাশাপাশি সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিকের পরিধিও বাড়িয়েছে সরকার। সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের এককালীন অবসর ভাতা ৭০ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এককালীন অবসর ভাতা ৮০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই সরকারের এসব জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মহাসমাবেশে তৃণমূলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গ্রাম পুলিশের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন সুরক্ষিত রাখতে এই বাহিনীর অবদান অপরিসীম।
স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সুবাদে কোথায় কোন অপরাধমূলক তৎপরতা চলছে বা কোনো ধরনের উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তা গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সবচেয়ে আগে প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
এসব তথ্য দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছালে যেকোনো অপরাধ তৎপরতা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর শিকড় এখনো গ্রামে প্রোথিত উল্লেখ করে তিনি জানান, একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ রাষ্ট্র গড়তে হলে গ্রামীণ জনপদের শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের অপশাসনে শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার ভিত্তিও গভীরভাবে বিনষ্ট হয়েছিল।
রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিহিংসার বিষবাষ্প তৈরি করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা দূর করতে কেবল প্রশাসনিক বলপ্রয়োগ যথেষ্ট নয়। সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সবচেয়ে কাছের প্রতিনিধি হিসেবে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

