চট্টগ্রামে স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে এক ব্যক্তিকে মারধর করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বরুমতি সেতুর পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রীসহ আরও পাঁচ থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে।
পরবর্তী সময়ে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ হাশেম (৩৭)।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা আকতারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ তাকে নিজ বসতঘর থেকে গ্রেপ্তার করে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে বরুমতি সেতু এলাকায় সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন হাশেম। তার ডান পা থেকে রক্ত ঝরছিল।
এ সময় তিনি সড়ক দিয়ে চলাচল করা বিভিন্ন যানবাহনের দিকে হাত নেড়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন। পরে কয়েকজন পথচারী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাশেমের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরোধ চলছিল। স্ত্রী ও তার স্বজনেরা তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। অন্য লোকজন দিয়েও তাকে মারধর করানো হতো।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত মাসেও মারধর করে তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে আবারও তাকে মারধর করা হয়।
পরদিন ভোর পাঁচটার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে বরুমতি সেতুর পাশে ফেলে যাওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে একই উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর এলাকার বাসিন্দা ও হাশেমের ফুফাতো বোন আয়শা আকতারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
চার ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগির পর বাবার কাছ থেকে পাওয়া নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান হাশেম।
সেখানে স্ত্রীর নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন তিনি। প্রায় চার বছর আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। সেখান থেকে প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হাশেমের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রী আয়শা আকতারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন।
আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ তথ্য পেয়েছে, হাশেমকে তার স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিলে মারধর করেছেন। এতে তার ডান পা ভেঙে ও থেঁতলে যায়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনার রাতেই তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

