আমেরিকার ২০ বড় শহরের চারটির মেয়র এখন সমাজতান্ত্রিক, প্রভাব পড়বে ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষের ওপর

মঙ্গলবারের নির্বাচনে লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে দুজন সমাজতান্ত্রিক মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি বড় শহরের মধ্যে চারটিতে এখন সমাজতান্ত্রিক নেতারা দায়িত্বে। এই চার শহরে বাস করেন প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ।
লস অ্যাঞ্জেলেসের কাউন্সিল সদস্য নিথিয়া রমন, ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য, বর্তমান মেয়র কারেন বাসকে হারিয়েছেন। ডিসেম্বরে তিনি দায়িত্ব নেবেন; লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে বাস করেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।
মঙ্গলবার জয়ী হয়েছেন ডিএসএর সদস্য জেনিস লুইস জর্জও; তিনি ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র-নির্বাচিত হয়েছেন। শহরটিতে বাস করেন প্রায় সাত লাখ মানুষ।
রমন ও জর্জ যোগ দিচ্ছেন সিয়াটলের মেয়র কেটি উইলসন ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে। ফলে দেশের সবচেয়ে জনবহুল ২০ শহরের চারটিতেই এখন সমাজতান্ত্রিক মেয়র।
চার শহরের মোট জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ — এর মধ্যে আশপাশের শহরতলি ধরা হয়নি। শহরতলির বাসিন্দারা শহরে কাজ করেন, আর শহরের নীতি অপরাধ, সম্পত্তির দাম ও ব্যবসার পরিবেশের মাধ্যমে আশপাশেও প্রভাব ফেলতে পারে। চার শহরের মেট্রো এলাকার জনসংখ্যা ধরলে প্রায় চার কোটি ৪০ লাখ মানুষ এই মেয়রদের নীতির ভালো-মন্দ প্রভাবের আওতায় পড়তে পারেন।
হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ফেলো মাইক গঞ্জালেস বৃহস্পতিবার এক্সে লিখেছেন, 'এতে লস অ্যাঞ্জেলেস হলো চতুর্থ বড় শহর, যেখানে এখন সমাজতান্ত্রিক মেয়র থাকবেন; নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি ও সিয়াটলের সঙ্গে যোগ দিল।' তিনি আরও লিখেছেন, 'শিকাগোর মেয়র একজন বোকা, তবে তিনি নিজেকে ডিএসএ হিসেবে পরিচয় দেন না। আমেরিকা একসময় মার্কসবাদের বিরুদ্ধে দুর্ভেদ্য দুর্গ ছিল, তারপর মার্কসবাদীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দখল করে নেয়।'
সমাজতান্ত্রিক জয় শুধু সিটি হলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভোটাররা ডিএসএ-সমর্থিত বা সংশ্লিষ্ট সাতজন প্রার্থীকে হাউসে নির্বাচিত করেছেন: নিউইয়র্কের ক্লেয়ার ভালদেজ, ব্র্যাড ল্যান্ডার ও দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের, পেনসিলভানিয়ার ক্রিস র্যাব, কলোরাডোর মেলাট কিরোস, মিশিগানের ডোনাভান ম্যাককিনি ও ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাঞ্জেলা গঞ্জালেস-টরেস।
সমাজতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন প্রার্থীও মঙ্গলবার কংগ্রেসে এসেছেন বা পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
সাবেক বাইডেন হোয়াইট হাউসের সহযোগী ইয়েমিসি এগবেওলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনী জয় সত্ত্বেও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে জাতীয় প্রভাব বিস্তারে ডিএসএ হিমশিম খাবে।
ফক্স নিউজের সাম্প্রতিক জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, ৩২ শতাংশ ভোটারের সমাজতন্ত্র সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রয়েছে, আর ৬৪ শতাংশের নেতিবাচক। ইতিবাচক হারটি সর্বকালের সর্বোচ্চের সমান — পাঁচ বছর আগে প্রথম এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল; ফক্স নিউজ ২০১৯ সাল থেকে এই প্রশ্নটি করে আসছে।
সেপ্টেম্বরে গ্যালাপের জরিপে দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ আমেরিকানের সমাজতন্ত্র সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রয়েছে — ২০১০ সালে এই প্রশ্নটি ট্র্যাক করা শুরুর পর এটাই সর্বোচ্চ। একই ফক্স জরিপে ৫১ শতাংশ ভোটার পুঁজিবাদ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন, আর ৪৬ শতাংশের ধারণা নেতিবাচক।
'দ্য বিগ মানি শো'-এর প্যানেল জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল ইস্যু ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় ও অভিবাসন। একই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।



