পঞ্চগড় হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে পুরুষদের রাত্রিযাপন, বিব্রত রোগীরা
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় মহিলা সার্জারি রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে পুরুষদের অবাধ যাতায়াত ও রাত্রিযাপনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নারী রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও চিকিৎসার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় মহিলা সার্জারি রোগীদের থাকার কথা থাকলেও সেখানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পুরুষের সমাগম ঘটছে। রোগীদের আত্মীয়স্বজন বা নিকটজন হিসেবে অনেক পুরুষ তাঁদের রোগীদের দেখতে এসে চলে যাওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘসময় অবস্থান করছেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ রাতেও মহিলা ওয়ার্ডে রোগীদের সঙ্গে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে নারী রোগীদের চিকিৎসা, বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সার্জারি রোগীদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁদের জন্য নিরিবিলি ও নিরাপদ পরিবেশ প্রয়োজন। সেখানে পুরুষদের অবাধ প্রবেশ ও রাত্রিযাপনের কারণে নারী রোগীরা অস্বস্তিতে পড়তে পারেন।
পাশাপাশি নারী রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। মহিলা ওয়ার্ডে পুরুষদের উপস্থিতি নারী রোগীদের চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নার্স জানান, ‘আমরা যখন কেনুলা করি তখন মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে রোগীর পুরুষ স্বজনরা অবস্থান করেন। সেসব পুরুষরা মহিলা রোগীদের ইনজেকশন দেওয়ার সময় তাকিয়ে থাকে। আমরা ও দায়িত্বরত আনসারগণ উপস্থিত থাকলেও তারা বের হয় না। ফলে রোগীরা যেমন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে, আমরাও বিব্রত হই।’
আধুনিক সদর হাসপাতাল পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মিজানুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর পরও রোগীর স্বজনরা মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে দীর্ঘসময় অবস্থান করেন এবং রাত্রিযাপন করেন।
সচেতন মহলের দাবি, হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে স্বজনের থাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। বিশেষ করে মহিলা ওয়ার্ডে কারা প্রবেশ করবেন, কতক্ষণ অবস্থান করবেন এবং রাতে কারা রোগীর সঙ্গে থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের মতে, মহিলা ওয়ার্ডে পুরুষদের অবাধ যাতায়াত ও রাত্রিযাপন নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রয়োজনে নারী রোগীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে নারী অ্যাটেনডেন্টের ব্যবস্থা, প্রবেশপথে নজরদারি এবং নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র বা অনুমতিপত্রের মাধ্যমে স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।
মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে পুরুষদের অবস্থান নিয়ে ওঠা এই অভিযোগের পর এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও কার্যকর পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন রোগী ও সচেতন মহল।




