৫৪৮ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের সাজা কমালেন নিউসম, প্রসিকিউটরদের তীব্র সমালোচনা

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৪৮ জন বন্দির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করার ঘোষণা দেওয়ার পর রাজ্যজুড়ে জেলা অ্যাটর্নি ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে।
সান লুইস ওবিসপো কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ড্যান ডাউ অভিযোগ করেন, গভর্নর অপরাধের শিকারদের উপেক্ষা করেছেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটারদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেছেন।
নিউসমের এই সিদ্ধান্তে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সব বন্দির সাজা প্যারোলের সুযোগ ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কর্মীদের প্রশংসার পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ড্যান ডাউ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, 'আমার মনে হয়, দুঃখজনকভাবে এটা সবই রাজনীতি নিয়ে। এই ক্ষেত্রে রাজনীতি মানুষের ঊর্ধ্বে উঠেছে, আর এটা সত্যিই দুঃখজনক অবস্থা।'
এক খোলা চিঠিতে নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে নিউসম লেখেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থা রাজ্যের নীতির সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক। তিনি লেখেন, 'প্রায় ৩০ বছর সরকারি পদে থাকার পর আমি বুঝতে পেরেছি সরকার ন্যায়সঙ্গতভাবে কী করতে পারে, তার সীমা রয়েছে। আমি এই পদক্ষেপ নিচ্ছি কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র অনুমোদিত হত্যা ক্যালিফোর্নিয়ার মূল্যবোধের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ, আমাদের আইনি ব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং আমাদের প্রত্যেককে ছোট করে।'
২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিউসম মৃত্যুদণ্ডের ওপর নির্বাহী স্থগিতাদেশ জারি করেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০০৬ সালের পর আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।
ঘোষণার পরপরই প্রতিক্রিয়া আসে। সান ডিয়েগো পুলিশ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লেফটেন্যান্ট জ্যারেড উইলসন বলেন, 'এই ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার হবে না, তাঁদের মধ্যে কয়েক ডজন সান ডিয়েগো কাউন্টির। তাঁদের শেষ স্মৃতি ছিল এই দুষ্ট লোকদের, যারা তাঁদের জীবন কেড়ে নিয়েছে। গ্যাভিন নিউসম যা করেছেন, তা ভয়াবহ।'
আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা জেসি মাইকেল গোমেজের মামলার কথা উল্লেখ করেন, যিনি ২০১৬ সালে সান ডিয়েগো পুলিশ অফিসার জোনাথন 'জে.ডি.' ডি গুজম্যানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি নাথান হোচম্যান বলেন, 'ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষকে দুটি পৃথক ব্যালট উদ্যোগে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, এবং দুবারই তাঁরা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্য এটি বজায় রাখতে বেছে নিয়েছেন। আইন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আমার অফিস মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য প্রতিটি মামলা সেই কঠোরতা, যত্ন ও সংযমের সঙ্গে মূল্যায়ন করতে থাকবে, যা এই সিদ্ধান্তগুলো দাবি করে।'
অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি টড স্পিটজার এই সাজা কমানোর সিদ্ধান্তকে 'নেকড়েদের প্রতি দয়া... আর ভেড়াদের প্রতি চূড়ান্ত নিষ্ঠুরতা' বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন।
রিভারসাইড কাউন্টির শেরিফ চ্যাড বিয়ানকো জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যে ১২৭ জন তাঁর কাউন্টিতে সংঘটিত অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়েছেন। তিনি বলেন, 'এই সাজাগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া দেওয়া হয়নি। এগুলো এসেছে ব্যাপক তদন্ত, দীর্ঘ বিচার, আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ এবং জুরি ও বিচারকদের সিদ্ধান্তের পর। তবু একটিমাত্র ব্যাপক নির্বাহী সিদ্ধান্তে গভর্নর সেই ফলাফলগুলোকে অগ্রাহ্য করতে বেছে নিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের পরিবারের কণ্ঠ, প্রসিকিউটরদের কাজ এবং বছরের পর বছর ধরে অর্জিত ন্যায়বিচারের সাধনাকে উপেক্ষা করে।'
বিয়ানকো এর আগে গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর মতো অনেক আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত বছরের পর বছর ধরে চলা বিচার প্রক্রিয়াকে এক কলমের খোঁচায় বাতিল করে দিয়েছে।



