মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচল বে এরিয়ার গণপরিবহন, ভোটারদের রায়ে বছরে ১০০ কোটি ডলারের তহবিল
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার ভোটাররা এই সপ্তাহে দুটি গণপরিবহন ব্যবস্থা বিপুল ভোটে অনুমোদন করেছেন। এতে আর্থিক সংকটে থাকা অঞ্চলের গণপরিবহন সংস্থাগুলো ধ্বংসের মুখ থেকে বেঁচে গেল বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিজিওনাল ট্রানজিট মেজার (আরটিএম) নামের ব্যবস্থাটির আওতায় চারটি বে এরিয়া কাউন্টিতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বিক্রয় কর এবং সান ফ্রান্সিসকোতে ১ শতাংশ বিক্রয় কর আরোপ করা হবে। এতে বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার আয় হবে, যা অঞ্চলের চারটি বৃহত্তম ট্রানজিট অপারেটরের জন্য ব্যয় করা হবে।
এই ব্যবস্থাটি পাঁচটি কাউন্টিতে মোট ৬২ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতে সমর্থন ছিল আরও বেশি—৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
সান ফ্রান্সিসকোতে ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার মুনির জন্য একটি পার্সেল করও অনুমোদন করেছেন। মুনি একটি বড় মার্কিন শহরে প্রথম সরকারি মালিকানাধীন ও পরিচালিত ট্রানজিট সংস্থা।
ব্যবস্থাগুলো পাস না হলে বে এরিয়া র্যাপিড ট্রানজিট (বার্ট) আগামী বছরের শুরুতেই ১৫টি পর্যন্ত স্টেশন বন্ধ করতে বাধ্য হতো। সেই সঙ্গে সেবার ফ্রিকোয়েন্সি অনেক কমিয়ে দিতে হতো এবং ভাড়া ও পার্কিংয়ের খরচ বাড়াতে হতো।
কমিউটার রেল ক্যালট্রেন, যা সান ফ্রান্সিসকোকে দক্ষিণ বে অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করে, ১০টি স্টেশন বন্ধ করে সপ্তাহান্তের সেবা বন্ধ করে দিত। আর সান ফ্রান্সিসকো শহরের প্রধান গণপরিবহন ব্যবস্থা মুনিকে সেবার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিতে হতো, ২০টি বাস লাইন বাতিল করতে হতো এবং আইকনিক স্ট্রিটকার ও কেবল কার স্থগিত করতে হতো। সব সংস্থাকেই সন্ধ্যার সেবা বন্ধ করতে হতো।
কম সেবা ও কম স্টেশন মানে কম ভাড়ার আয়, কম যাত্রী এবং নিম্নগামী কৃচ্ছ্রতার ধারা—যাকে বলা হচ্ছে 'ট্রানজিট ডুম স্পাইরাল'। এতে বে এরিয়ার বাসিন্দারা নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের উপায় ছাড়া পড়তেন।
এর প্রভাব হতো বিশাল। কারণ অঞ্চলটি একটি বড় জলাশয়কে ঘিরে গড়ে উঠেছে, যেখানে ফ্রিওয়ে ও সেতুগুলো যানজটে ভরা থাকে।
সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া প্ল্যানিং অ্যান্ড আরবান রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের পরিবহন নীতি পরিচালক লরা টলকফের লেখা সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকো-ওকল্যান্ড বে ব্রিজে—যেখানে মাসে প্রায় ৩৫ লাখ বার পারাপার হয়—এবং অঞ্চলের অন্যান্য চোকপয়েন্টে পিক আওয়ারে যানজটের বিলম্ব দ্বিগুণের বেশি হয়ে যেত।
মহামারির সময় যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় বে এরিয়ার ট্রানজিট সংস্থাগুলো অনন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কারণ পরিচালন রাজস্বের জন্য তারা ভাড়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং অঞ্চলটিতে দূরবর্তী ও হাইব্রিড কাজের দিকে স্থানান্তর দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল।



