‘চব্বিশ আমাদের’ বলে মালিকানা দাবি করলে নবীনরা নবীনই থেকে যাবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চব্বিশের আন্দোলনকে কেউ যদি শুধু নিজেদের একক অর্জন বা দাবি বলে মনে করেন, তবে তার সুফল বা জুলাইয়ের চেতনা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, নতুন রাজনীতিতে আসা নবীনরা যদি বারবার ‘চব্বিশ আমাদের’ বলে এর মালিকানা দাবি করতে থাকেন, তবে পরিশেষে এটি কারও জন্যই টিকবে না এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেদের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কোনো একক গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। আন্দোলনের সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে হলে এর মালিকানা নিয়ে বিভাজন নয়, ঐক্যের চেতনা ধরে রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতারা ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’ গঠন করে ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ও অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, মুখ্য সচিব ও ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং সাবেক সচিব মো. মশিউর রহমান।
একই দিনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আরেকটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আহমেদ আযম খান বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন। স্বাধীনতার অন্যতম মূল অঙ্গীকার ছিল গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার পথে নানা বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু দেশের স্বাধীনতা রক্ষাই করেননি, ক্রান্তিলগ্নে দেশের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করেন। অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ এবং জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুসংহত অগ্রগতির মাধ্যমে আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবুল হাশানাত হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ খান।
এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ‘জাতীয় ঐক্য: ৭ নভেম্বরের চেতনা’ শীর্ষক সেমিনারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের ঘটনায় জিয়াউর রহমান নেতৃত্ব না দিলে বাংলাদেশ তার বর্তমান অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকতে পারত না।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে ঘিরেই জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। তিনি ছিলেন একজন স্বাভাবিক নেতা। তাঁর সততা, সাহসিকতা, নেতৃত্বগুণ ও জাতীয়তাবোধ তাঁকে সবার কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছিলেন টু ফিল্ড আর্টিলারির সৈনিকরা। এ সময় ফোর বেঙ্গলের সৈনিকরাও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। তাঁকে মুক্ত করে টু ফিল্ড আর্টিলারির সিইওর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্নেল তাহেরের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত বর্ণনাকে তিনি ভুল বলে উল্লেখ করেন।
জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধাদের বিভাজন দূর করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন সেনাবাহিনীর সদস্যদের পোশাক, জুতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট ছিল। তিনি সেনাবাহিনীর কাঠামো ও সক্ষমতা পরিবর্তনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এমনকি জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে আওয়ামী লীগকেও আলোচনায় ডেকেছিলেন।


