ড্যানিয়েল জোনসকে নিয়েও প্রস্তাব শুনতে রাজি কোল্টস, ট্রেড ডেডলাইনের আগে সরগরম এনএফএল

এনএফএল ট্রেড ডেডলাইনের আগে ইন্ডিয়ানাপলিস কোল্টসের কেউই যেন অছোঁয়া নেই। কোয়ার্টারব্যাক ড্যানিয়েল জোনসের বিষয়েও দলটি অন্তত প্রস্তাব শুনতে রাজি আছে বলে জানা গেছে। ইএসপিএন ও এনএফএল নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
কোল্টসের কাছে একাধিক দল থেকে ফোন এসেছে—জোনস পাওয়া যাবে কি না, জানতে চেয়ে। দলটি অন্তত সেই দলগুলোর কথা শুনতে রাজি হয়েছে। নবম সপ্তাহে ডালাস কাউবয়েজের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জোনস।
যেসব দল যোগাযোগ করেছিল, তাদের মধ্যে বাল্টিমোর রেভেন্সও ছিল। তবে অ্যারিজোনা কার্ডিনালসের কাছ থেকে জ্যাকবি ব্রিসেটকে নেওয়ার চুক্তি হওয়ার পর রেভেন্স সম্ভবত আর এই দৌড়ে নেই।
আরও একটি দল নিয়ে জল্পনা চলছে—মিনেসোটা ভাইকিংস। ৬-১ রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও আক্রমণভাগে ভুগছে দলটি। ভাইকিংসের প্রধান কোচ কেভিন ও'কনেলের সঙ্গে জোনসের পুরোনো পরিচয় আছে। নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস জোনসকে ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি ও'কনেলের সঙ্গে কাজ করেছিলেন।
২০২৬ সালের মার্চে জোনস কোল্টসের সঙ্গে দুই বছরের আট কোটি ৮০ লাখ ডলারের চুক্তি সই করেছিলেন, যা একশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। গত মৌসুমের ১৪তম সপ্তাহে অ্যাকিলিস ছিঁড়ে যাওয়ার পরও দলটি তাঁর প্রতি আস্থা দেখিয়েছিল।
কোল্টস কোয়েন্টন নেলসন ও ডিফরেস্ট বাকনারকে ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই ট্রেড আলোচনায় ব্যস্ত। জোনাথন টেইলর ও জশ ডাউন্সের বিষয়েও আলোচনা চলছে। অনেকেই ধারণা করছেন, এবারের ট্রেড ডেডলাইন হতে পারে বেশ সরগরম।
মৌসুমের এক পর্যায়ে কোল্টস ছিল এনএফএলের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু জোনসের চোটের পর তাঁর জায়গায় কার্যকর বিকল্প খুঁজে পায়নি দলটি। এমনকি ফিলিপ রিভার্সকে অবসর থেকে ফিরিয়ে এনেও কাজ হয়নি।
ভাইকিংসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ব্রায়ান ফ্লোরেসের নেতৃত্বে তাদের রক্ষণভাগ লিগের অন্যতম কঠিন ইউনিট। ধারাবাহিক কোয়ার্টারব্যাক পেলেই দলটি সুপার বোলের দৌড়ে সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভাইকিংস দ্রুত কাইলার মারেরকে প্রধান কোয়ার্টারব্যাক করেছিল, কিন্তু তিনি ধারাবাহিক খেলা উপহার দিতে পারেননি। এবার সোমবার রাতে বাফেলো বিলসের বিপক্ষে 'ম্যানডে নাইট ফুটবল'-এ ওয়েন্টজের ওপর ভরসা রাখবেন ও'কনেল।
এদিকে কোল্টসের প্রধান কোচ শেন স্টাইকেন মনে করেন, জোনসই এখন দলের জন্য সেরা ভরসা। তিনি বলেছেন, জোনস দলকে এখন জেতার সেরা সুযোগ দেয়। তবে দলটি যদি পুনর্গঠনের পথে হেঁটে ড্রাফট পুঁজির জন্য খেলোয়াড় বিক্রি করতে চায়, তাহলে এখনই জেতাটা হয়তো তাদের অগ্রাধিকার নয়।
নেলসন ও বাকনারকে ছাড়ার পর কোল্টস এখনও অন্য উচ্চমানের খেলোয়াড়দের ছাড়ার মতো সঠিক প্রস্তাব পায়নি। ১০ নভেম্বর বিকেল ৪টায় (ইস্টার্ন সময়) ট্রেড ডেডলাইন শেষ হবে, আর সেদিনই বোঝা যাবে কোল্টস আসলে কী করতে চায়।




