রাশিয়াকে ফেরাতে সিএএসের রায় মানতে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ নিচ্ছে আইআইএইচএফ, বেলারুশ বাদ

আন্তর্জাতিক আইস হকি ফেডারেশন (আইআইএইচএফ) শনিবার জানিয়েছে, বেলারুশ তাদের আসন্ন বিশ্ব টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নেবে না। তবে রাশিয়াকে খেলতে দেওয়ার বিষয়ে ক্রীড়া সালিশি আদালতের (সিএএস) রায় মানতে ফেডারেশন ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ নিচ্ছে।
গত সপ্তাহে সিএএস রায় দেয়, রুশ দলগুলো আসন্ন পুরুষ ও নারী বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে পারবে। এতে আইআইএইচএফের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।
আগামী মাসে কানাডার আলবার্টায় অনুষ্ঠেয় বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপই হবে এই সিদ্ধান্তে প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত টুর্নামেন্ট।
হকি কানাডা ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গত সপ্তাহে বলেছেন, আগামী মাসের বিশ্ব জুনিয়রে রুশদের খেলতে দেওয়া হবে না।
এক বিবৃতিতে আইআইএইচএফ বলেছে, ‘রুশদের অংশগ্রহণ নিয়ে সিএএসের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আইআইএইচএফ এখনো দ্বিমত পোষণ করলেও, সিএএসের রায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং চ্যাম্পিয়নশিপগুলো রক্ষা, সংস্থার আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইস হকির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
ফেডারেশন আরও বলেছে, ‘আইআইএইচএফকে প্রযোজ্য কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে হবে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা রক্ষা ও পুরো খেলাটির সুরক্ষার দায়িত্বও পালন করতে হবে।’
রুশ আইস হকি ফেডারেশনসহ ক্ষতিগ্রস্ত সব সদস্য সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করে বৈশ্বিক আইস হকির স্বার্থে একটি গঠনমূলক পথ খুঁজতে ‘সব উপায়’ খতিয়ে দেখছে আইআইএইচএফ।
এনএইচএল কিংবদন্তি ওয়েইন গ্রেৎস্কি নিজ দেশ কানাডায় আগামী মাসের বিশ্ব জুনিয়রসহ বিশ্ব টুর্নামেন্ট থেকে রুশ খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ রাখার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন।
রাশিয়া চলতি বছরের শুরুতে অলিম্পিক হকিতে খেলেনি—২০১৪ সালের পর এটাই ছিল এনএইচএল খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রথম অলিম্পিক যেখানে রাশিয়া ছিল না। এনএইচএলের ফোর নেশনস ফেস-অফেও তারা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। রাশিয়া ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আক্রমণ করে, অলিম্পিক শেষ হওয়ার চার দিন পর।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেছেন, রুশ খেলোয়াড়দের নিজ দেশের হয়ে খেলতে বাধা দেওয়া সংস্থাগুলো ‘একসময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেনি এবং রুশ ক্রীড়ার ওপর এমন বিধিনিষেধ চালিয়ে যাচ্ছে যা আইনের ভিত্তিতে নয়, বরং অত্যন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
পুতিন বলেন, ‘এটি আইন ও বিচারিক রায়ের সুস্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন—এবং একই সঙ্গে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোরও লঙ্ঘন। ঠিক এভাবেই এটিকে ব্যাখ্যা করা উচিত।’
সুইডেন, ফিনল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, নরওয়ে, লাটভিয়া ও ডেনমার্ক ঘোষণা দিয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধ চলমান থাকলে তারা রাশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে। ২০২৭ সালের পুরুষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক জার্মানিও ইঙ্গিত দিয়েছে, রাশিয়াকে খেলতে দিলে তারাও সরে দাঁড়াতে পারে।
আগামী বছরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান স্ট্রাউস হুমকি দিয়েছে, ফিনল্যান্ড সোমবার অন্য দেশগুলোকে রাশিয়ার বিপক্ষে না খেলার জন্য একজোট করার পর তারা সরে যেতে পারে।
রাশিয়া যদি আগামী মাসে যায়, তবে ২০২১ সালের পর এটাই হবে তাদের প্রথম বিশ্ব জুনিয়র। তারা শেষবার সোনা জিতেছিল ২০১১ সালে।




