আইসিইর হাতে আটক উইসকনসিনের ট্রুপার মুক্ত, তবে ইলেকট্রনিক নজরদারিতে থাকতে হবে

উইসকনসিন রাজ্য পুলিশের ট্রুপার কারেল অ্যারন ভ্যান ডার মেরভেকে আটকের পর মুক্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ওঠার অপেক্ষায় থাকার সময় ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টরা তাকে আটক করেছিল। শুক্রবার তার আইনজীবীরা সামাজিক মাধ্যমে জানান, তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক ভ্যান ডার মেরভে ১৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। সাত বছর ধরে তার আশ্রয় মামলার শুনানির অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এর মধ্যে তিনি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৈধ কাজের অনুমতি পেয়েছিলেন, আর সেই অনুমতিতেই উইসকনসিনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজ করছিলেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তার আটকের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, তিনি ২০১৯ সালের একটি ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে অবস্থান করছিলেন। মিলওয়াকি জার্নাল সেন্টিনেলকে বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, কাজের অনুমতি বা বিচারাধীন আবেদন যুক্তরাষ্ট্রে আইনি মর্যাদা দেয় না।
ভ্যান ডার মেরভের আইনজীবীরা—ক্রিস্টোফার অ্যান্ড ডি লিওন আইন সংস্থা—এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, ডিএইচএসেরই আরেক সংস্থা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) তাকে কাজের অনুমতি দিয়েছিল। আইন সংস্থাটি আরও বলেছে, আইসিই নিজেও নিজের বিবৃতি বিশ্বাস করে বলে তারা মনে করে না।
মুক্তি পেলেও ভ্যান ডার মেরভেকে ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে। কী কারণে তাকে ছাড়া হলো, সে বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।
আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে লিখেছেন, তার মুক্তি সুসংবাদ। তবে তারা যোগ করেছেন, আমাদের লড়াই শেষ হয়নি। অভিবাসন বিচারকের সামনে কারেলকে এখনো তার অভিবাসন মামলা লড়তে হবে।
তারা আরও লিখেছেন, ইউএসসিআইএস—ডিএইচএসেরই একটি সংস্থা—কারেলকে কাজের অনুমতি দিয়েছিল। সেই অনুমতি ব্যবহার করে তিনি উইসকনসিনের জনগণের সেবা ও সুরক্ষায় কাজ করেছেন। এরপর ডিএইচএসেরই আরেক সংস্থা আইসিই তাকে আটক করল। নীরবতার চেয়ে বেশি কিছু এই পরিবারের প্রাপ্য।
গত বছর তার স্নাতক অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায়, উইসকনসিনের গভর্নরের সামনে তার বাবা তার ব্যাজটি পরিয়ে দিচ্ছেন।
শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যান ডার মেরভের পরিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল। গত বছর ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফিরে আফ্রিকানার শরণার্থীদের পুনর্বাসনকে উৎসাহিত করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পর তারা আশ্রয় পাওয়ার আশা করেছিল। ওই আদেশে দাবি করা হয়েছিল, তারা দেশে সরকার-পৃষ্ঠপোষকতায় বর্ণভিত্তিক বৈষম্য থেকে পালাচ্ছে—যে দাবিকে মিথ্যা বলা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-বহিষ্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে আইসিইর ব্যাপকভাবে প্রচারিত, বিতর্কিত এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী অভিযান চলেছে। একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আটকের ঘটনা ঘটছে—ভিসাধারী যাত্রী, গ্রিন কার্ডধারী এবং বিচারাধীন আশ্রয় মামলার লোকজন আটক হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হোয়াইট হাউসের চাপিয়ে দেওয়া গ্রেপ্তার কোটা পূরণের চেষ্টায় এসব হচ্ছে।
ভ্যান ডার মেরভের আইনজীবীরা অমীমাংসিত অভিবাসন কাগজপত্র আছে এমন অনাগরিকদের বিমানে ভ্রমণের আগে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, আগে কোনো সমস্যা ছাড়াই ভ্রমণ করে থাকলেও এখনো তা হবে বলে ধরে নেবেন না।




