বসন্তে তুষারপাত অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে, ঠান্ডা হাওয়ায় জমে উঠল পাহাড়ি এলাকা
অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বসন্তের মৌসুমে তুষারপাত হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তুষার পড়েছে।
থ্রেডবো, পেরিশার ও মাউন্ট হোথামে তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তাসমানিয়ার হোবার্টে কুনানি বা মাউন্ট ওয়েলিংটনেও তুষার পড়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর ব্যুরো অব মেটিওরোলজি (বিওএম) আগেই এই তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছিল। দপ্তরটি জানিয়েছে, এই সময়ে তুষারপাত অস্বাভাবিক হলেও একেবারে বিরল নয়—গত ২৪ ঘণ্টায় যেসব জায়গায় তুষার পড়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোতেই ২০২২ সালের নভেম্বরেও তুষার পড়েছিল।
হঠাৎ এই তুষারপাত দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছেন।
থ্রেডবোর একটি দোকানের ব্যবস্থাপক মেডেলিন ম্যাকভি শনিবার বিকেলে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় এখন বসন্তকাল, নভেম্বরে তুষার পড়ছে—এটা বিশ্বাস করা কঠিন। তিনি জানান, সামান্য নয়, রীতিমতো প্রবল তুষারপাত হচ্ছে।
রোববার সকালে তিনি আরেকটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তুষারপাতের মধ্য দিয়ে খালি চেয়ারলিফটে চড়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
তাসমানিয়ার কিংস্টন ক্রোজ ক্রিকেট ক্লাব শনিবার কিংস্টন বিচ ওভালের একটি ছবি পোস্ট করে, যেখানে মাঠটি শিলাবৃষ্টিতে ঢাকা দেখা যায়।
বিওএম জানিয়েছে, অ্যান্টার্কটিকার দিক থেকে উত্তর দিকে আসা ঠান্ডা বাতাস ভরা একটি আবহাওয়া ব্যবস্থা এই শীতল আবহাওয়ার কারণ। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের বাতাসের কারণে অনুভূত তাপমাত্রাও আরও কম মনে হচ্ছে।
দুপুরের দিকে অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন, হোবার্ট, ক্যানবেরা ও সিডনিতে অনুভূত তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রির নিচে ছিল। তখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল অ্যাডিলেডে ১৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা অনুভূত হচ্ছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি হিসেবে। ক্যানবেরায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি, অনুভূত হচ্ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি।
অন্যদিকে ব্রিসবেন, পার্থ ও ডারউইনে তখন তাপমাত্রা ছিল ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যে।
সোমবার থেকে আবহাওয়া উষ্ণ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে সব রাজধানী শহরের তাপমাত্রা অন্তত ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এটি এ বছরের শেষ শীতল ধাক্কাগুলোর একটি হতে পারে। বিওএমসহ জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছে। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দূষণের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু সংকট ইতিমধ্যেই চরম আবহাওয়াকে আরও তীব্র করছে এবং মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। দক্ষিণ গোলার্ধের গ্রীষ্ম আরও গরম ও শুষ্ক হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে, যার অর্থ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় দাবানল ও খরার ঝুঁকি আরও বাড়বে।

