নেতানিয়াহুকে পেছনে ফেলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন আইজেনকট

ইসরায়েলে নতুন জোট সরকার গঠনের দায়িত্ব বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে দিতে যাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
গত সপ্তাহের নির্বাচনে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট কিংবা আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। আলোচনা শেষে তিনি আইজেনকটকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সরকার গঠনের জন্য এখন ২৮ দিন সময় পাবেন আইজেনকট। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক এই সামরিক প্রধান লিখেছেন, এখন জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময়। তিনি আরও লিখেছেন, এই দায়িত্ব পালনের যোগ্য হতে তিনি সবকিছু করবেন।
ইসরায়েলে কোনো রাজনৈতিক দলই এখন পর্যন্ত এককভাবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটির সব সরকারই জোটের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি এবং তাদের উগ্র ডানপন্থী ও অতি-গোঁড়া ইহুদি মিত্ররা ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকটের মধ্যপন্থী দল এবং তাঁর জোটের আরও তিনটি ইহুদি বিরোধী দল পেয়েছে ৪৮টি আসন।
অন্যদিকে আরবদের নেতৃত্বাধীন দুটি জোট ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট মিলে পেয়েছে ১৯টি আসন। আরব ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারা এই অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে।
এর ফলে সরকার গঠনে তাদের ভূমিকা নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে ইহুদি দলগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব দলই আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে সরকার গঠন না করার অঙ্গীকার করেছিল।
প্রেসিডেন্ট হারজগ বলেন, সপ্তাহজুড়ে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করার পর তিনি আইজেনকটকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের কথা আইজেনকট ও নেতানিয়াহু দুজনকেই জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নতুন নেসেটের সদস্যদের প্রতিনিধিদলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পক্ষে ৬৭টি সুপারিশ পেয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহু পেয়েছেন ৪৬টি সুপারিশ।
সরকার গঠনের জন্য কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্টের হাতে ব্যাপক এখতিয়ার রয়েছে। যিনি জোট গঠনে সবচেয়ে বেশি সফল হবেন বলে তিনি মনে করেন, তাঁকেই এ দায়িত্ব দিতে পারেন। সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই যে দায়িত্ব দিতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
নির্বাচনের ফলাফলে সরকার গঠনের তিনটি সম্ভাব্য পথ দেখা যাচ্ছে। প্রথমটি হলো, নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের অংশগ্রহণে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন। দ্বিতীয়টি, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ডানপন্থী জোট গঠন, যেখানে আইজেনকটের জোট থেকে কিছু সদস্য যোগ দেবেন। তৃতীয়টি হলো, আইজেনকটের নেতৃত্বে সরকার গঠন, যাকে সমর্থন দেবে আরব দলগুলো।
আইজেনকট এবং তাঁর জোটের একজন ছাড়া বাকি সব সদস্যই আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর সঙ্গেও সমঝোতার চেষ্টা করতে পারেন আইজেনকট। তবে সেই পথও সহজ হবে না।
ইসরায়েলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের নজির রয়েছে। ২০২০ সালে টানা তিনটি নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ও তাঁর মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্টজ ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী, দুজন পালাক্রমে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট হারজগ বলেছিলেন, নতুন করে আরেকটি নির্বাচন এড়াতে এবং স্থিতিশীল সরকার গঠনের স্বার্থে তিনি আশা করেন, বর্তমান বাস্তবতায় সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করা সম্ভব নয়—দলগুলো ও তাদের প্রতিনিধিরা বিষয়টি বুঝতে পারবেন।
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়টি ছিল ইসরায়েলের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি বিভক্তির সময়গুলোর একটি। ওই সময়ে নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা বারবার সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটিতে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর জানা যায়, দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের ৬৭ জন আইনপ্রণেতা ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের পর বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জোটটি এই ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও নানা বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহ কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা।

